

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একটি রহস্যজনক বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী-শিশুসহ তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। ভোরের নীরবতা ভেঙে বিকট শব্দে ঘটে যাওয়া এ বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, কী ধরনের বিস্ফোরক থেকে এ ঘটনা ঘটেছে, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজ সোমবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে এ বিস্ফোরণ হয়।
আহতরা হলেন শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল বেলা হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দেখতে পান বাড়ির পাশে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় তিনজন ছটফট করছেন। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল জানান, বাড়ির পাশে রাখা একটি বালুভর্তি বস্তার মধ্যে থাকা বিস্ফোরক সদৃশ কোনো বস্তু হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তার মা, বোন ও ভাগনের শরীরে আগুন ধরে যায়। জীবন বাঁচাতে তারা বাড়ির সামনের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, ‘ওই বিস্ফোরকটি সেখানে কীভাবে এলো বা কে রেখে গেছে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। আমরা নিজেরাও হতবাক।’
খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তকারীরা বিস্ফোরণের ধরন, ব্যবহৃত উপকরণ এবং এর উৎস শনাক্তে কাজ করছেন।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী ধরনের বিস্ফোরক থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।