গাছ না কেটে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী নির্দেশনার ফলে রক্ষা পেল প্রায় তিন হাজার গাছ। এটি দেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়ন রক্ষায় একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ২১ এপ্রিল সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলমন্ত্রী রবিউল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব সরেজমিনে মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, সড়ক প্রশস্ত করতে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গাছ কেটে পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের সড়ক প্রসস্তকরণে প্রায় তিন হাজার গাছ কাটার প্রয়োজন হতে পারে—এই সংবাদ জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে একটি গাছও না কেটে রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গাছ না কেটে সড়ক প্রশস্তকরণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিন হাজার গাছ না কেটে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে।
বিগত সরকারগুলোর সময়ে সড়ক সম্প্রসারণে রাস্তার দুই পাশের গাছ কেটে ফেলা ছিল যেন সাধারণ বিষয়। পরিবেশের ক্ষতির দিকটি কখনোই বিবেচনা করা হতো না। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সেই ধারা থেকে বের হয়ে এসেছে মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, শুধু বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণই নয়, পুরো মেরিন ড্রাইভকে আরও দৃষ্টিনন্দন, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটকবান্ধব করতে সড়কের দুই পাশে নতুন সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষরোপণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পে রাস্তা প্রশস্তকরণ, রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ ২ লেনের সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকৃতি রক্ষার এমন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্যও নতুন বার্তা দিচ্ছে।





















