

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। কোরবানি ঈদেও এখন নিত্যনতুন পোশাকের বাহার নিয়ে আসে ফ্যাশন হাউসগুলো। এই ঈদে সাধারণত জমকালো পোশাক কমই কেনা হয়। কারণ এই ঈদের মাহাত্ম্য আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। তবুও পরিবারের সদস্যদের জন্য তো নতুন পোশাক কেনাই হয়। বাজার ঘুরে এ ঈদের ট্রেন্ডি পোশাকগুলো নিয়ে লিখেছেন নিশাত তানিয়া
শাড়ির বাহার
দেশিদশের শোরুম ঘুরে দেখা গেল, সারাদিন শাড়ি পরে কাজ করা যাবে এমন সুতি শাড়ি, চিকন পাড়, ব্লকবাটিক কাজের শাড়ির সমারোহ। এগুলো গরমে যেমন আরাম আবার সকাল থেকে অনেকটা সময় অনায়াসে কাটানো যাবে। তবে শপিংমলগুলো ঘুরে পাশাপাশি দেখা মিলল শিফন জর্জেট, কাতান আর জামদানির শাড়ি। শাড়িতে জরি, পুতি, ভারী স্টোনের কাজও এবার বেশ চোখে পড়ছে। কম দামে ভালো শাড়ি পেতে চলে যেতে পারেন মিরপুরের বেনারসি পল্লিতে। সুতি শাড়ির মূল্য পড়বে ১৬০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে। আর গর্জিয়াস শাড়ি ২০০০ থেকে ৫০০০ হাজারেও পেয়ে যাবেন। তবে অবশ্যই স্থান এবং ধরনভেদে দামের তারতম্য হবে।
তরুণীদের পছন্দ বাহারি গাউন
তরুণীদের মাঝে এবার গাউন কেনার আগ্রহ বেশ দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমা দেশের এই পোশাকটিকে দেশীয় চাহিদায় ক্রেতাদের কাছে নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যেই দেশীয় বুটিক হাউসগুলো পার করছে ব্যস্ত সময়। আড়ং, কে-ক্র্যাফট, রঙসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলো নিয়ে এসেছে সুতির গাউন থেকে শুরু করে জমাকালো কাজ করা গাউন। কাটাছাঁটে আছে ভিন্নতা। ক্রেতাদের স্বাস্থ্য, উচ্চতা সব দিক খেয়াল রেখেই বিক্রেতারা গাউনের জোগান রেখেছেন। অনেকে আবার গজ কাপড় কিনে নিজের ইচ্ছেমতো ডিজাইনে বানাচ্ছেন গাউন। গজ কাপড় কিনতে চলে যেতে পারেন আজিজ সুপার মার্কেট, নিউমার্কেটের মতো জায়গাগুলোতে। গাউন ১২০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৫-৬ হাজারেও নিতে পারেন।
ফ্যাশান কুর্তি
রংবেরঙের কুর্তি আজকাল ফ্যাশনে বেশ জনপ্রিয়। যে কোনো জায়গায় দারুণ স্টাইলিশ এবং আরামদায়ক এই পোশাক। বাঙালি কালচার ধরে রাখার পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন স্টাইলের ছোঁয়া পাওয়া যায়। সারা বছর ধরে কুর্তির চাহিদা থাকলেও গরমকালেই কুর্তি বেশি জনপ্রিয়। ফ্যাশনে একটু ভিন্ন ধাঁচ আনতে তরুণীরা সালোয়ার-কামিজের বদলে বেছে নেয় কুর্তি। কলেজ, ভার্সিটি, অফিস কিংবা জমকালো পার্টিতেও স্বাচ্ছন্দ্যভাবে পরে যেতে পারেন। এছাড়া ঈদের সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজের ধকল সামলানোর সহজ পোশাক হতে পারে এটি। কুর্তি পরার সুবিধাটি হচ্ছে সালোয়র, স্কার্ট, লেগিংস, প্যান্ট যে কোনো কিছু দিয়ে পরা যায়। এ কুর্তি অথবা সিঙ্গেল কামিজগুলো দেশীয় হাউস, নিউমার্কেট, অনলাইনেও খুবই দেখা যাচ্ছে। দাম মাত্র ৮০০ টাকা থেকে শুরু।
সালোয়ার-কামিজ
এবার ঈদ পড়ছে গরমে সঙ্গে বৃষ্টিও হতে পারে। এ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে ডিজাইন, রঙ ও কাপড়ের ধরনের দিকে ফ্যাশন ডিজাইনারদের ছিল আলাদা মনোযোগ। গরমে সুতি কাপড়ই সবচেয়ে আরামদায়ক। এ কারণে ঈদের সালোয়ার-কামিজ কিংবা কুর্তি তৈরিতে সুতি কাপড়ই জোর পেয়েছে বেশি। ক্রেতাদের কাছেও সুতির সালোয়ার-কামিজের চাহিদা বেশি। তবে শুধু সুতি কাপড়েই যে জোর বেশি দেওয়া হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। শিফন, সুতি, ক্রেপ, জর্জেট, সিল্ক, লিনেন, ভালো মানের নেটের তৈরি সালোয়ারও পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষত শিফনের তৈরি সালোয়ার-কামিজে সৌন্দর্য ও কমনীয়ভাব ফুটে ওঠে বেশি। উৎসবের কথা মাথায় রেখে ঈদ পোশাকে সুতি কাপড়ের পাশাপাশি প্রাধান্য পেয়েছে সিল্ক, জর্জেট, লিনেন, টিস্যু, ভিসকস, জর্জেট, অরগান্ডা কাপড়ও সালোয়ার-কামিজে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে। আবহাওয়া বুঝে ঈদের সকাল, বিকাল ও সন্ধ্যার পোশাক নির্বাচন করা উচিত। সেক্ষেত্রে সকালের দিকে সুতি কিংবা লিনেন আরাম দেবে বেশি। ঈদের দিন বিকাল বা সন্ধ্যায় বের হলে এক্সক্লুসিভ বা পার্টি উপযোগী সালোয়ার-কামিজ কিংবা কুর্তি পরা যেতে পারে। এসব কিছুই এবারের ঈদ আয়োজনে বাড়তি চমক হিসেবে রয়েছে।
স্বস্তির জন্য সুতি
ফ্যাশন হাউসগুলোতে ঈদ কালেকশন হিসেবে থাকছে থিমনির্ভর ডিজাইন। অরিয়েন্টাল রাগ থিমের দিকেই জোর অনেকের। ফ্যাব্রিকে রয়েছে কটন, স্লাব কটন, লিনেন, হাফসিল্ক, জর্জেট, সিকুয়েন্স, মসলিন, বলাকা সিল্ক, এন্ডি সিল্ক। অ্যাশ, লাইট ব্রাউন, মেরুন, সাদা, কালো, ক্রিম, মিন্ট, লাল, পিংক, সবুজ, নীল, লেমন গ্রিন, পিচ, সি গ্রিন রঙের মিশ্রণ ঘটেছে পোশাকগুলোতে। মসলিন ব্লেন্ড, ভিসকস ব্লেন্ড, নাইলন-কটন ব্লেন্ড, লেসি-স্ট্রাকচার, পলিস্টার-কটন ব্লেন্ড, রামি, কটন ও হেম্প ব্লেন্ড এবং কটন মোডাল ফ্যাব্রিকে নেচার-ইন্সপায়ার্ড প্রিন্ট স্টোরি ও হাইটেক নিয়ন কালার দিয়ে ঈদ পোশাক সাজিয়েছে লা রিভ। এবারের কালেকশনে লেয়ার, আবায়া ও রেট্রো ডিজাইনের পোশাকগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। যে কোনো বয়সের মানুষের জন্য স্ক্রিনপ্রিন্ট, ব্লকপ্রিন্ট, হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, ড্রাই, কারচুপি ও কাটিং অ্যান্ড সুইংয়ের কাজ রাখা হয়েছে।