বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

টেস্টটিউব বেবি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭ বার

১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই সমগ্র বিশ্বের চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয় ইংল্যান্ডে। জন্ম হয় প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউন। প্যাট্রিক স্টেপটো ও রবার্টস এডওয়ার্ডস নামক দুজন চিকিৎসকের পুনঃপুন ও অক্লান্ত একাগ্রতার ফসল হলেন লুইস ব্রাউন। পরবর্তী সময়ে এ দুজন চিকিৎসক নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন চিকিৎসাশাস্ত্রে। আইভিএফ চিকিৎসা সারা বিশ্বেই এখন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে ও আরও আধুনিক রূপে এটার অগ্রগতি এখন ঈর্ষণীয়। প্রথম আইভিএফ বা টেস্টটিউব বেবি জন্মের পর ৪৮ বছর পার হয়ে গেছে, তবুও সাধারণ মানুষের মাঝে এ চিকিৎসা নিয়ে নানারকম জল্পনা-কল্পনার অবসান আজ অবধি হয়নি। একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো- লুইস ব্রাউন কিন্তু পরবর্তী সময়ে একেবারে প্রাকৃতিকভাবেই গর্ভধারণ করেন, বিশেষায়িত কোনো চিকিৎসা নিতে হয়নি।

আইভিএফ বেবি হলো ডিম্বাণু ও শুক্রাণু শরীরের বাইরে নিষিক্ত করে ল্যাবরেটরিতে ভ্রƒণ তৈরি করা হয় ও তা ইনকিউবেটরে বিশেষ তাপমাত্রায় ও বিশেষ পুষ্টিসমৃদ্ধ মিডিয়ার মাঝে যেন বেড়ে ওঠে, সেটা নিশ্চিত করা হয়। এরপর দিন হিসাব করে মাতৃগর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে যে প্রক্রিয়াটা নারীর শরীরের অভ্যন্তরে হওয়ার কথা ছিল, সেটা ল্যাবরেটরিতে করা হয়। এরপর বাচ্চার বেড়ে ওঠা ও জন্মপ্রক্রিয়া আর ৮-১০টা সাধারণ মানব শিশুর মতোই।

আইভিএফ বেবি নিয়ে কিছু ভুল ধারণা মানুষ পোষণ করে; যেমন-

– এ বাচ্চাগুলো দেখতে আলাদা হয়।

– এদের বুদ্ধিমাত্রা সাধারণ মানব শিশুর চেয়ে ভিন্ন।

– এরা সম্ভবত টেস্টটিউবের ভেতর বেড়ে ওঠে ও সেখান থেকে জন্ম নেয়।

– অন্য কারও ডিম্বাণু ও শুক্রাণু দম্পতিকে না জানিয়ে ব্যবহার করা হয়।

– এ চিকিৎসা ইসলাম ধর্মে অনুমোদন দেয় না।

সংক্ষিপ্ত আকারে যদি এ জিজ্ঞাসাগুলোর উত্তর দেওয়া হয়, তাহলে বলতে চাই, টেস্টটিউব বেবি চিকিৎসায় জন্ম নেওয়া সন্তানরা স্বাভাবিক মানব শিশুর মতোই মাতৃগর্ভে বড় হয়, জন্ম হয় একই নিয়মে, স্বতন্ত্র কোনো বৈশিষ্ট্য নেই ও নিজের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু ব্যবহার করলে এ চিকিৎসায় কোনো বাধা নেই ইসলাম ধর্মে।

বাংলাদেশেই বেশকিছু ইনফার্টলিটি সেন্টার হয়েছে, যারা সফলতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এ চিকিৎসা দিচ্ছে। সফলতার হার ৪০ থেকে ৬০-৭০ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রথম আইভিএফ বেবি হীরা-মণি-মুক্তা জন্ম নেয় ২০০১ সালে ও প্রথম হিমায়িত ভ্রƒণ বেবি অপসরা জন্ম নেয় ২০০৮ সালে।

নিঃসন্তান দম্পতিরা আস্থার সঙ্গে ও উপযুক্ত সময়ে এ চিকিৎসা গ্রহণ করলে ফলাফল আশানুরূপ হবে ও একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন। তবে প্রাইভেট খাতে সারা বিশ্বের মতো এ চিকিৎসা ব্যয়বহুল।

ডা. শাহীনা বেগম শান্তা

সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইনফার্টিলিটি ও আইভিএফ বিআরবি হাসপাতাল

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com