মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পকে ন্যাটোতে ফেরাতে তৎপর ইউরোপীয় নেতারা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ন্যাটোর প্রতি পুনরায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত জোটের শীর্ষ সম্মেলনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন ইউরোপীয় নেতারা। ইরান যুদ্ধ, ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে সম্মেলনের শুরুতেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশের নেতারা নৈশভোজে মিলিত হলেও মূল শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। এর আগে সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মতি দিয়েছেন, যেখানে ন্যাটোর সমষ্টিগত প্রতিরক্ষার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে নেতাদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরই ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করা হবে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন আঙ্কারায় পৌঁছে ট্রাম্প বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব না থাকলে তিনি হয়তো এ সম্মেলনেই অংশ নিতেন না। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপ থেকে আরও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

সম্মেলনের আগে ন্যাটো জানায়, ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অন্তত ৫ হাজার কোটি ডলারের নতুন অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য ইউরোপের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো।

তবে ট্রাম্প ন্যাটোর প্রতি আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে জোটের সদস্যরা ওয়াশিংটনকে যথাযথভাবে সমর্থন দেয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছি, কিন্তু প্রয়োজনে তারা আমাদের পাশে নেই। আমরা সব সময় তাদের পাশে থেকেছি।’

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধের সময় কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে পর্যাপ্ত সহযোগিতা দেয়নি। যদিও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, তারা বিদ্যমান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের আগে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পরামর্শ করেনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। ইরান ইস্যুতে সহায়তা না করায় মেলোনির সঙ্গে তার সম্পর্ক কিছুটা খারাপ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইতালির কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই বিরোধের ইতি টানার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প আবারও বলেন, ন্যাটোভুক্ত দেশ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।

এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর আঙ্কারায় ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেদেরিকসেন বলেন, মিত্র দেশগুলোর উচিত ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা এবং মেনে নেওয়া যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর এবং ইউরোপের প্রচলিত নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউরোপ থেকে সেনা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে, ন্যাটোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণও সীমিত করেছে এবং মহাদেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ছয় মাসব্যাপী পর্যালোচনা শুরু করেছে।

ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, তারা মহাদেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নিতে প্রস্তুত। তবে তারা চান, এই পরিবর্তন যেন ধাপে ধাপে এবং পূর্বনির্ধারিতভাবে হয়, যাতে কোনো নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি না হয় এবং রাশিয়া তার সুযোগ নিতে না পারে।

ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক সম্মেলনে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com