মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে দুই লাখ মানুষের ভিসা বাতিল হতে পারে

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন; এমন বিদেশিদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।

সোমবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে মিলে এমন বিদেশিদের শনাক্ত করবে, যারা ব্যবসা বা পর্যটনের মতো স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু পরে দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।

এপির পাওয়া মার্কিন সরকারি নথি ও কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিল হতে পারে। এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটবে।

যেসব বিদেশির ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া বি-১ ও বি-২ ভিসা রয়েছে, তাদের মধ্যে যারা আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে। বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য এবং বি-২ ভিসা পর্যটনের জন্য দেওয়া হয়।

তবে ভিসা বাতিল হলেই এসব মানুষকে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে না। যাদের আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন, তাদের ক্ষেত্রে মূলত ভিসার ধরন পরিবর্তন করা হতে পারে। অর্থাৎ তারা আশ্রয়ের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন, কিন্তু আর ব্যবসা বা পর্যটনের ভিসাধারী হিসেবে থাকবেন না।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয়ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ করে আসছেন। মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও জানিয়েছেন, দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ‘ভিত্তিহীন আশ্রয়ের আবেদনে’ চাপে রয়েছে।

এর আগে চলতি মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করেছে। নতুন করে প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ আরও বড় আকার নেবে।

ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসন শুধু অবৈধ অভিবাসন নয়, বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। এর মধ্যে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং ব্যাপক ধরপাকড় ও বহিষ্কার অভিযান রয়েছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তা তৈরি করছে। এসব নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেও একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com