

বর্তমানে দুই দেশের সহযোগিতা শুধু ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ছে।
ওই সফরে দুই দেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘উন্নত বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করতে সম্মত হয়। দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশলগত মিল এবং বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য ছিল দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছাকে আরো বাস্তব এবং দৃশ্যমান সহযোগিতায় রূপ দেওয়া। এর ফলে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-ভিয়েতনাম সহযোগিতা আরো বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং আবুধাবির যুবরাজের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। মালয়েশিয়া ও ইথিওপিয়া- দুই দেশই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন মোদি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে বিভাজন, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপের মধ্যে ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব নিয়েছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ব্রিকসের সম্প্রসারিত সদস্য ও অংশীদারদের নিয়ে কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাস্তব ফলাফল তৈরি করা। এর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।
ব্রিকসের বিদ্যমান বিভিন্ন ব্যবস্থা ও কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করাও এবারের সভাপতিত্বের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য ১১টি দেশ। এগুলো হলো- ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর বাইরে ব্রিকসের ১০টি অংশীদার দেশ রয়েছে। এগুলো হলো- নাইজেরিয়া, বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।