

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র হত্যা মামলায় সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ফতুল্লা থানার মাসদাইর এলাকার আদর্শ স্কুলের উত্তর পাশে ‘মায়ের আঁচল’ নামে নির্মাণাধীন ১২ তলা ভবনের সপ্তম তলায় সাখাওয়াত হোসেন শুভ্রকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথার পেছনে ও থুতনির নিচে আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর নিহত শুভ্রর বাবা মো. শাহাদাত হোসেন শিকদার বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০২০ সালের ২৪ মার্চ ফতুল্লা থানার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে এজাহারভুক্ত সাত আসামি বাবুল সাহা জীবন, নাজমুল ইসলাম, সঞ্জয় দাস ওরফে মনা, মিলন, বশির, সমীর ও কাওছারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লার হোমনা থানার ফতেহকান্দী এলাকার দানেশ সাহার ছেলে বাবুল সাহা জীবন, ফতুল্লার মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরি এলাকার মো. আমির হোসেনের ছেলে নাজমুল ইসলাম, চাঁদপুরের ধামাদী এলাকার গোপাল চন্দ্র দাসের ছেলে সঞ্জয় দাস ওরফে মনা, মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরি এলাকার মিলন, বশির, মাসদাইর বাজারের পাবনা পট্টি এলাকার যতীন্দ্রর ছেলে সমীর এবং নরসিংদীর রায়পুর এলাকার প্রয়াত ডাক্তার মো. হামিদের ছেলে কাওছার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় সাত আসামির মধ্যে পাঁচজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই আসামি বাবুল সাহা জীবন ও কাওছার পলাতক রয়েছেন।