

চাইলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আবারও পর্তুগাল জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কোচ জর্জে জেসুস। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগাল অধিনায়ক নেশন্স লিগের দলে ছিলেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে বদলি হিসেবে রাখা হলেও মাঠে নামানো হয়নি। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে থাকবেন না জানতে পেরে তিনি জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান।
পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন আল নাসরের ফরোয়ার্ড রোনালদো। দুটি সংখ্যাই আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্ব রেকর্ড।
জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো লিখেছিলেন, ‘সময় হলে জাতীয় দল ছাড়ার কারণ পর্তুগালের সব মানুষের কাছে সত্যি করে জানাব। এই দলের প্রতি আমি সবসময়ই নিবেদিত ছিলাম।’
জেসুস অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন, নেশন্স লিগে দলের চতুর্থ ও শেষ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে খেলার পর রোনালদোর বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। রোববার নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল প্রতিযোগিতার শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
আল নাসরেও রোনালদোর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেসুস বলেন, ‘সে চাইলে জাতীয় দলে ফিরবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী দল ঘোষণার আগে আমরা কথা বলতে পারি। তবে সিদ্ধান্ত নেবে ক্রিস নিজেই।’
রোনালদোর জাতীয় দলের অধ্যায় তার নিজের ইচ্ছামতো শেষ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে তার সময়টা কীভাবে শেষ হবে, সেটা তার নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। সে-ই ঠিক করবে কীভাবে শেষ করতে চায়।’
জেসুস আরও বলেন, ‘আমি প্রথমবার দল ঘোষণার সময় বলেছিলাম, ‘আমার তোমাকে দরকার, তোমাকে আমার কাছাকাছি দরকার। তুমি খেলো বা না খেলো, তোমাকে আমার দরকার।’ এখনো আমি একই কথা বলছি।’
গ্রুপ ‘এ৪’-এ পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচ ১৪ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে ঘরের মাঠে। এরপর তিন দিন পর ওয়েলসের মাঠে খেলবে তারা।
নেশন্স লিগের প্রথম ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে শুরু থেকে খেলেছিলেন রোনালদো। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে তাকে বদলি হিসেবে রাখা হয় এবং জানানো হয়, প্রয়োজনে তাকে মাঠে নামানো হতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে তাকে গা গরম করানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
২০০৮ সালের পর প্রতিযোগিতামূলক কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটাই ছিল প্রথমবার, যখন সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল।
এরপর জেসুস সংবাদ সম্মেলনে জানান, ডেনমার্কের বিপক্ষেও রোনালদো একাদশে থাকবেন না। সেই ঘোষণার পরই জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে যান পর্তুগিজ অধিনায়ক।
রোনালদো দলে না থাকায় এসি মিলানের ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস শুরু থেকে খেলা তিন ম্যাচেই গোল করেছেন।
রোববার নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর পর্তুগালের হয়ে গোল করা জোয়াও কানসেলো বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আমাদের অধিনায়ক, পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার সঙ্গে সবকিছু অবশ্যই সবচেয়ে ভালোভাবেই শেষ হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা চারটি ম্যাচই জিতেছি।’
সতীর্থ নুনো মেন্দেস বলেন, ‘জাতীয় দলে যে খেলোয়াড়ই আসুক, তাকে স্বাগত জানানো হবে। অবশ্যই ক্রিস ফিরে এলে আমরা তাকে দুহাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাব।’
পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুটি নেশন্স লিগের শিরোপা জিতেছে।