বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী নতুন দায়িত্ব পেলেন হুইপ দুলু পে-স্কেলের পরও দুর্নীতি হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে নামবে জনগণ-ভোলায় সারজিস আলম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্ট ভবন নির্মাণে ভুয়া বিলে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ স্থানীয় নির্বাচনে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবো না: সিইসি চট্টগ্রামে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত পলিথিন-প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যেন ফিরে এসেছে নব্বইয়ের দশক এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা

শিক্ষা টিভি সত্বর হোক, তবে বিটিভির বাইরে থাক

শরিফুজ্জামান
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪২১ বার

অনলাইনে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে নিতে শিক্ষা টিভি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ আলোচনা বেশ আগের। সর্বশেষ গত বছরের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসক সম্মেলনে কয়েকজন জেলা প্রশাসকের আলোচনার সূত্র ধরে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি শিক্ষা টিভি চালুর কথা বলেছিলেন। এ নিয়ে তখনকার গণমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়। এরপর এক বছরের বেশি সময় ধরে এ নিয়ে আর উচ্চবাচ্য হয়নি।

সংসদ টিভি ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে এখন শ্রেণিপাঠ সম্প্রচার করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শেষ হলেও অনলাইন শিক্ষা চালিয়ে নিতে শিক্ষা টিভি রাখা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। এ জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষা চ্যানেল করার এই পরিকল্পনা। সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে, একটি কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

শিক্ষা টিভির ধারণা যে নতুন, তা নয়; ভারতের পাঞ্জাবসহ কয়েকটি রাজ্য শিক্ষা টিভি চালু করেছে। ভারত সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বয়ম প্রভা (পুরো নাম স্টাডি ওয়েবস অব অ্যাকটিভ লার্নিং ফর ইয়ং অ্যাসপায়ারিং মাইন্ড)–এর মাধ্যমে মোট ৪৪টি ডিটিএইচ বা ডাইরেক্ট টু হোম চ্যানেল চালু করা হয়েছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য আলাদা এসব চ্যানেলে প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে ক্লাস হচ্ছে। এরপর দিনে পাঁচবার সেই ক্লাস দেখানো হয়।

পাকিস্তান আমাদের চেয়ে শিক্ষাসহ নানা সূচকে বেশ পিছিয়ে। কিন্তু গত ১৩ এপ্রিল দেশটি শিক্ষা টিভি চালু করেছে, এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘টেলিস্কুল চ্যানেল’। এর উদ্বোধন করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাকিস্তানে ৪০ শতাংশের বেশি শিশু স্কুলের বাইরে। সরকারি হিসাবে, দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আছে ৩৬ শতাংশ মানুষের। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে পাকিস্তানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশের চেয়ে অনেক সূচকে দেশটি পিছিয়ে থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় বেশ আগেভাগে দেশটি শিক্ষা টিভি চালু করেছে। এর ভালো-মন্দ ও বাস্তবতা নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যার শিরোনাম ‘ইন দ্য ওয়ার্ল্ডস ফিফথ মোস্ট পপুলাস কান্ট্রি, ডিসট্যান্স লার্নিং ইজ আ সিঙ্গেল টেলিভিশন চ্যানেল’। চ্যানেলটি চালুর প্রায় এক মাস পর গত ১৯ মে ওয়াশিংটন পোস্ট প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেলগুলো শিশুসহ সব বয়সের মানুষের জন্য একাডেমিক প্রোগ্রামের পাশাপাশি ডকুমেন্টারিসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম সম্প্রচার করে। দেশটির কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দূরশিক্ষণ কোর্সে টেলিভিশন ব্যবহার করে। জার্মানিতে বিআর টিভির মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুল এডুকেশন প্রোগ্রাম ও ইউনিভার্সিটি এডুকেশন প্রোগ্রাম সম্প্রচার করা হয়। বিআর আলফা হচ্ছে জার্মানির স্বতন্ত্র শিক্ষামূলক চ্যানেল। সেখানে শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীর জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম সম্প্রচার করা হয়। হংকংয়ের এডুকেশন চ্যানেলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

দীর্ঘদিন নানা কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় টেলিভিশন ব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। মরক্কো সরকার সে দেশের একটি ২৪ ঘণ্টার স্পোর্টস চ্যানেলের কার্যক্রম স্থগিত করে তার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। নিউজিল্যান্ডে চালু করা হয়েছে ‘পাপা কাইনগা’ নামক শিক্ষা সম্প্রচার কার্যক্রম।

এমনকি ছোট দ্বীপ দেশ ভানুয়াতুতেও আছে শিক্ষামূলক টিভি চ্যানেল। এ বছরের এপ্রিলে চিলিতে টিভি এডুচিলি নামে শিক্ষা চ্যানেল চালু হয়েছে।

বাংলাদেশে শিক্ষা টিভির আলোচনা বেশ আগেই শুরু হয়েছে, সেই আলোচনায় এখন মাত্র গতি পেয়েছে। অ্যাপসভিত্তিক অনলাইন ক্লাসসহ বেতার-টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি খুব একটা সফল হয়নি। প্রস্তুতিতে গলদ ছিল, শিক্ষক নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল এবং অডিও-ভিডিওতে নানা রকম ঝামেলা আছে। বলা হচ্ছে, এসবের স্থায়ী সমাধান দিতে পারে ‘শিক্ষা টিভি’। এর মাধ্যমে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচার করা সম্ভব।

করোনা পরিস্থিতিতে সংসদ টিভিতে প্রাথমিক পর্যায়ের রেকর্ড করা ক্লাস চালু করা হয়।

তবে এখনো ক্লাসের বাইরে আছে ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী। বিশ্বব্যাংকের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২১ ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইন ভার্চ্যুয়াল শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পেরেছে। বাকি ৭৯ ভাগ ভার্চ্যুয়াল শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে।

বিটিভি ও সংসদ টিভির জন্য বরাদ্দকৃত ফ্রিকোয়েন্সি দিয়েই শিক্ষা টিভি চালু করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১–এর মাধ্যমে ফ্রিকোয়েন্সি পাওয়ার ঝামেলা মিটবে। তবে শিক্ষা টিভিকে বিটিভির নিয়ন্ত্রণে রাখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। বিটিভির নিয়ন্ত্রণে গেলে এটার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি বলা কঠিন। এটা স্বতন্ত্র চ্যানেল হোক, এর ব্যবস্থাপনা আলাদা হোক। দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্ব দিলে শিক্ষা টিভি জাতির জন্য কল্যাণকর একটি চ্যানেল হয়ে উঠতে পারে।

শরিফুজ্জামান: সাংবাদিক

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com