রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

অন্তহীন ভালো লাগার একটি শব্দ- মা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ মে, ২০২১
  • ১৭৯ বার

পৃথিবী নানা মত ও পথে বিভাজিত হয়ে গেছে। অনেক সম্পর্ক ম্লান হয়ে গেছে। কিন্তু মা শব্দটি এক অন্তহীন ভালোলাগায় মানুষের মধ্যে মিশে আছে আজও। মধুরতম এই শব্দ উচ্চারিত হলেই যেন থেমে যায় মানুষ। শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসে শির ও শরীর। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চায় অবিরত মানুষ গবেষণার অনেক দূর চলে গেছে; দূরাকাশে, গভীর থেকে গভীরে। কিন্তু মা শব্দটির গভীরতা মাপার দুঃসাহস না করেই বরং অনাবিল সুখের আবেশে ভেসে বেড়াচ্ছে মানুষ। আর মা তো মা-ই। হোক কর্মজীবী কিংবা গৃহিণী মা। সন্তানকে অদৃশ্য এক বাঁধনে বেঁধে তিনি নিজেকে নিরন্তর পুড়িয়ে আনন্দ কুড়াচ্ছেন।

আজ মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার, মা দিবস; অতীতের মতো এখনো কেক কেটে সারা পৃথিবীতে মা দিবস উদযাপন হচ্ছে। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের ছবি দিয়ে কিংবা মাকে নিয়ে কিছু লিখে অনুভূতি প্রকাশ করা হয়। কোরআন, পুরান থেকে কিংবা মাকে নিয়ে পৃথিবীজুড়ে লেখা লাখ লাখ কবিতার অংশবিশেষ উল্লেখ করেও মা দিবসে ফেসবুকে পোস্ট দেন অনেকে। মাকে মধ্যমণি করে থাকে সামাজিক ও পারিবারিক আড্ডা। কিন্তু কোভিড ১৯-এর প্রকোপ হয়তো এবার আর মাকে ঘিরে আড্ডার সুযোগ দেবে না।

দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিজীবী সমাজে অন্যান্য দিবসের মতো এটিও খুব একটা গুরুত্ব পায় না। মা-বাবা, ভাইবোন একসঙ্গে দায়িত্বের সঙ্গে বাস করে দিবস প্রথায় মনোযোগী হন না। তাদের ধরা না দিয়ে নীরবে নিভৃতে চলে যায় মা দিবস।

আনা জার্ভিস যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর ও ওহাইওর মাঝামাঝি ওয়েবস্টার জংশন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিস সারা জীবন ব্যয় করেন অনাথ-আতুরের সেবায়। মেরি ১৯০৫ সালে মারা যান। লোকচক্ষুর অগোচরে কাজ করা মেরিকে সম্মান দিতে চাইলেন মেয়ে আনা জার্ভিস। অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের মতো দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব মাকে স্বীকৃতি দিতে আনা জার্ভিস প্রচার শুরু করেন। সাত বছরের চেষ্টায় মা দিবস যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়।

কেউ কেউ বলছেন, ‘মা দিবসের’ প্রচলন হয় প্রাচীন গ্রিসে। অন্যরা বলছেন, সর্বপ্রথম ১৯১১ সালের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার আমেরিকাজুড়ে ‘মাদারিং সানডে’ নামে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করা হয়। ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন। এর পর পৃথিবীর দেশে দেশে মা দিবসটি পালনের রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে দিনটি পালন করা হয়। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রবিবার নরওয়েতে, মার্চের চতুর্থ রবিবার আয়ারল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাজ্যে। আর বাংলাদেশে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার।

মা দিবসের প্রবক্তা আনা জার্ভিস দিবসটির বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, মাকে কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো, তাকে দুই কলম লেখার সময় হয় না। চকলেট উপহার দেওয়ার অর্থ হলো, তা নিজেই খেয়ে ফেলা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com