

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর মেশিন স্থাপিত হয়নি। কবে এই মেশিন বসবে, তাও সংশ্লিষ্ট কেউ বলতে পারছেন না। এতে সংযুক্ত আরব-আমিরাতগামী প্রবাসীকর্মীদের করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কাজ আটকে আছে। ফলে তারা দেশটিতে যেতে পারছেন না। এমন প্রেক্ষাপটে প্রবাসীকর্মীরা আজ আমরণ অনশনে যাওয়ার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এক সপ্তাহ আগে গত সোমবার
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঢাকায় হজরত শাহজালালসহ দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে র্যাপিড টেস্টের ল্যাব স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতির খবর জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসীর কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার আরটি-পিসিআর টেস্ট মেশিন স্থাপনে টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ এই মেশিন স্থাপিত হবে তা এখনো নির্দিষ্ট করে কেউই বলতে পারছেন না।
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে আরটি-পিসিআর টেস্ট মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। তা সরেজমিনে দেখার জন্য ভারত যাবে একটি কারিগরি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরে সিদ্ধান্তে যাবে টেকনিক্যাল কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে করোনা ভাইরাসের আরটি-পিসিআর টেস্টের সুবিধা না থাকায় সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী (ইউএই) যাত্রীদের নেবে না বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির পতাকাবাহী বিমান পরিবহন সংস্থা এমিরেটস। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার হযরত শাহজালাল, সিলেটের ওসমানী ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব বসানো হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনাও দেন ওইদিন।
আরটি-পিসিআর মেশিন স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সিভিল অ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ‘জায়গাসহ সব ধরনের ফ্যাসিলিটি নিয়ে আমি বসে আছি। স্বাস্থ্য ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় অগ্রগতির খবর বলতে পারবেন।’
এদিকে করোনার কারণে দেশে আটকেপড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা দ্রুত বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর টেস্টের মেশিন বসানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রবাসীকল্যাণ পরিষদ। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের চেয়ারম্যান আহমেদ রিয়াজ বলেন, বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর টেস্টের মেশিন না থাকায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার দুবাই প্রবাসী কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংস্থা এমিরেটস এয়ার ও আবুধাবির ইত্তেহাদ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের এয়ারপোর্টগুলোয় র্যাপিড পিসিআর ল্যাব না থাকায় তারা আবার বাংলাদেশে ফ্লাইট বন্ধ করে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, দুবাইয়ে আগামী অক্টোবর মাসে এক্সপো-২০২০ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সেই বাণিজ্যমেলায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্যাভিলিয়ন নির্মাণের কাজ চলছে। বিশ্ববাসীর সামনে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশকে তুলে ধরতে এই প্রয়াস ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আরব আমিরাত সরকারের শর্ত অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর টেস্টের ল্যাব স্থাপন করা না হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেওয়ার পরও বিমানবন্দরে র্যাপিড পিসিআর টেস্ট মেশিন বসাতে দেরি হওয়ায় আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী’র ব্যানারে আমরণ অনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে।