

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জাতীয়পার্টির নেতা ও সংসদ সদস্য মশিউর রহমান রাঙা মিথ্যাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে কাদের মির্জা এসব কথা বলেন।
লাইভে মশিউর রহমান রাঙার বক্তব্য তুলে ধরে কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি নাকি ৩০-৪০ জন লোক নিয়ে স্থানীয় জাপা নেতা সাইফুল ইসলাম স্বপনকে ধরে এনে হাত-পা ভেঙে দিয়েছি। রাঙা কেন পক্ষপাতিত্ব হয়ে এ ধরনের কথা বলেন, তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। জাতীয় সংসদে কথা বলার আগে বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে তার যাচাই করা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে আপনার বিষয়ে তার মুখ থেকে শুনেছিলাম, আপনি নাকি নীতি নৈতিকতা নিয়ে রাজনীতি করেন। এ বিষয়টি (জাতীয়পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম স্বপনকে আহতের ঘটনা) খোঁজখবর নেন। সত্যতা পেলে আমার দল আমার বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্ত নেবে তা আমি মাথা পেতে নেব। মশিউর রহমান রাঙা, নোয়াখালীর অপরাজনীতির হোতা এমপি একরাম চৌধুরীর অপরাজনীতির ফাঁদে পড়েছেন। জাপা নেতা স্বপন বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকা নিয়েও জাপা নেতাদের মধ্যে অনেক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছিল।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জাতীয়পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম স্বপনের ওপর হামলার ঘটনাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র। কাদের মির্জা বলেন, ‘জাতীয় পার্টির নেতারা তাদের দলীয় প্যাডে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। সেদিন স্বপন পৌরসভায় থাকাকালীন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনজন আইনজীবী, প্রেস ক্লাবের সভাপতি-সেক্রেটারি ও উপজেলা জাপার তিন শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা যদি বলে, সাক্ষ্য দেয় আমি তার গায়ে হাত দিয়েছি, তাহলে আমার বিচার হোক। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও আছে।’
জিএম কাদেরের উদ্দেশে কাদের মির্জা আরও বলেন, ‘আপনাদের দলের একটা অংশ নোয়াখালীতে আমার বিরুদ্ধে মানবন্ধন, বিক্ষোভ-সমাবেশ ও নানা কুৎসাও রটিয়েছে। এসব কেন করা হয়েছে, আমি এর বিচার চাই।’