

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে রাতভর র্যাগিং করার অভিযোগ উঠেছে তৃতীয় বর্ষের পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে হলের অপরাজিতা বিল্ডিংয়ের ৪ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন- নাসরিন জাহান খুশি, জুলি মারমা, রিনাকি চাকমা, জান্নাত নিপু ও পূজা দাস।
এ বিষয়ে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রাব্বানীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীদের একজন আয়শা আক্তার রিজু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় পাশের কক্ষের নাসরিন জাহান খুশি, জুলি মারমা আমার কক্ষে
আসে। তারা আমার রুমমেট রিনাকি, নিপু ও পূজার সঙ্গে কথা বলছিল। আমিও তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। একপর্যায়ে জুলি মারমাকে জিজ্ঞেস করি, ‘আপু আমি ভাত খাই এইটা তোমাদের ভাষায় কীভাবে বলে?’ জবাবে তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘তুই আমাকে জিজ্ঞেস করিস? তোর সাহস তো কম না, তোকে র্যাগ দিতে হবে।’ নাসরিন জাহান খুশিও বলে, ‘তোকে র্যাগ দিতে হবে।’ এর পর আমি বুঝতে পারি যে তারা আগে থেকেই প্ল্যান করে এসেছিলেন। তারা আমার সহপাঠীকেও নিয়ে আসে। সে রুমে ঢোকার পর রাগান্বিত হয়ে তারা বলেন, ‘রুমে আসার আগে সালাম দিতে হয় জানো না?’
লিখিত অভিযোগে রিজু আরও বলেন, ‘তারা আমাদের বাজে একটা গানে নাচতে বাধ্য করে। কোনো উপায় না পেয়ে তাদের কথা মানতে বাধ্য হই। রাত ১১টা পর্যন্ত আমাদের ওপর নির্যাতন চলে।’
ভুক্তভোগী আয়শা আক্তার রিজু জানান, ‘আমি নিরাপত্তাহীনতায় রুমেও যেতে পারছি না। আমার যদি কিছু হয়ে যায় তা হলে তারা দায়ী থাকবে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’
অভিযুক্ত খুশি বলেন, ‘আমরা তিন নম্বর রুমে থাকি আর তারা (রিজুরা) চার নম্বর রুমে। আমরা প্রায়ই ওদের রুমে যাই, নাচানাচি করি। তারই অংশ হিসেবে কালকে গিয়েছিলাম। রাত ১০টা পর্যন্ত নেচেছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এটি হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই আমরা অভিযোগপত্র হল প্রভোস্টের কাছে পাঠিয়েছি। প্রভোস্ট বিষয়টি দেখবেন।’
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি।’