বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ১৪ দলের শরিকদের ক্ষোভ

বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০২২
  • ১৪১ বার

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা। দলগুলো বলছে, রাজনীতি মানুষের জন্য। যে সিদ্ধান্তই আসুক তা মানুষের সহ্যসীমার মধ্যে রাখতে হবে। বৈশি^ক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের মানুষের কল্যাণে যে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো উচিত। কিন্তু হুট করে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী বৃদ্ধিতে উচ্চবিত্তদের বাদ দিয়ে দেশের অন্য সব শ্রেণিপেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমন জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে তারা।

জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘ঘাটতি সমন্বয়ের নামে আইএমএফের শর্ত মেনে সরকার বিষ গিলেছে। এ বিষ এখন অর্থনীতির দেহে ছাড়িয়ে রাজনীতি ও সমাজে বিস্তৃত হবে। আইএমএফ যেসব দেশে তাদের সাহায্যের হাত বাড়ায়, সেসব দেশেই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়। বৈশ্বিক সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করেও যে কথাটি বলা প্রয়োজন, এ সংকটের দায়ভার সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। জ্বালানি ক্ষেত্রে গত দুই দশকে যে দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে তা এখনো অব্যাহত আছে। সে ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলেই সংকট এড়ানো যেত।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া বলেন, ‘বিশ^বাজারে যখন জ্বালানির মূল্য কমছে তখন বাংলাদেশে এর বৃদ্ধিটা যুক্তিসংগত নয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে এর প্রতিক্রিয়া সমাজের সব স্তরে প্রতিফলিত হবে এবং

সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য হবে। আমরা মনে করি, এটা পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারী বলেন, ‘আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি। সারা বিশে^র বিবেচনায় এ দেশে জ্বালানির দাম আরও আগে বাড়ানোর দরকার ছিল। সহনশীল পর্যায়ে থেকে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করলে মানুষের ওপর এত প্রভাব পড়ত না। এক ধাপে এত দাম বাড়ায় মানুষের অনেক কষ্ট হবে।’

বাসদ নেতা রেজাউর রশীদ খান বলেন, ‘যে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে জনগণের চাপ পড়ে। জনগণের জন্য চাপ সৃষ্টি করার জন্য তো আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করি নাই। স্বাধীনতার পর সব সরকারই এভাবে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করেছে। এ কারণে আমরা সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। ফলে ধনী আরও ধনী হচ্ছে গরিব আরও গরিব হচ্ছে। এ জন্যই সমতাভিত্তিক রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের আন্দোলন এবং আমাদের জোট। সারা বিশ্বেই জ্বালানির দাম বেড়েছে। সুতরাং বাংলাদেশেও বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। তবে তা যেন ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে।

গণ-আজাদী লীগ নেতা এস কে শিকদার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বৈশি^ক অর্থনীতিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশের মতো যাদের অর্থনীতি খানিকটা দুর্বল বা মধ্যপর্যায়ে তারা সবাই এতে ভুগছে। তবে এককালীন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই সমীচীন হয়নি। জনগণকে আরেকটু সুযোগ দিয়ে দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ালে মানুষের ওপর এত চাপ পড়ত না।

আরও দুটি শরিক দলের নেতার ভাষ্য, সরকার ক্রমশ আমলানির্ভর হয়ে যাচ্ছে। এই নির্ভরতা সৃষ্টির আগে সংশ্লিষ্ট আমলাদের উদ্দেশ্য ও বিধেয় নিয়ে তারা ভাবছে না। ফলে জনবিচ্ছিন্ন আমলাদের সিদ্ধান্তই অবশেষে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com