বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

প্রার্থীদের স্ত্রীর আয় নেই, তবু তারা কোটিপতি

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৭ বার

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম পেশায় গৃহিণী। আয় না থাকলেও তার নামে রয়েছে চার কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ। একই চিত্র চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদের স্ত্রী তানজিনা সুলতানা জুহির ক্ষেত্রেও। কোনো আয় না থাকলেও তার সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি টাকা।

এই দুইজনই ব্যতিক্রম নন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে অন্তত ৯ জন এমপি প্রার্থীর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ চার কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪৩ কোটি টাকা পর্যন্ত। ছয়জনের স্ত্রীর সম্পদ তিন কোটি টাকা পর্যন্ত। চারজনের স্ত্রীর সম্পদ এক কোটি টাকার ঘরে। পাঁচ প্রার্থীর স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ দেখানো হয়নি। বাকি প্রার্থীদের স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামানজার শ্যামা খানের নামে রয়েছে ৪৩ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ। হলফনামায় তার পেশা ব্যবসা উল্লেখ করা হলেও আয়ের ঘরে কোনো অর্থ দেখানো হয়নি।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের স্ত্রী সুলতানা বাদশার কোনো আয় নেই, অথচ তার সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি টাকা। একই পরিমাণ সম্পদের মালিক চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আবু নাছেরের স্ত্রী শেলী আকতার। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিমের স্ত্রী কোহিনুর নাহার চৌধুরী পেশায় চিকিৎসক। তার ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ আড়াই কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ানের দুই স্ত্রী- নুরতাজ বেগম ও শর্মিলী ইয়াসমিন। উভয়েই কোটিপতি। একইভাবে চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী) আসনে বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের দুই স্ত্রী সাজিয়া আবদুল্লাহ ও ফজিলাতুন্নেছা সূচি পেশায় ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাজিয়া আবদুল্লাহর সম্পদ দুই কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ফজিলাতুন্নেছা সূচির এক কোটি ১৫ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনে ব্যতিক্রমী চিত্র পাওয়া গেছে। এখানে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ও আলাউদ্দীন সিকদারের স্ত্রী পেশায় গৃহিণী, তাদের স্ত্রীর নামে কোনো আয় বা সম্পদ নেই। একইভাবে চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়রা-কর্ণফুলীতে জামায়াত প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের স্ত্রী জোবায়দা আকতার, চট্টগ্রাম-৬ রাউজানে শাহজাহান মঞ্জুর স্ত্রী লুৎফর জাহান এবং চট্টগ্রাম-১০ এ শামসুজ্জামান হেলালীর স্ত্রী ফাহমিনা কাদেরীর নামেও কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদের তথ্য নেই।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৯০ শতাংশ এমপি প্রার্থী তাদের স্ত্রীর পেশার স্থানে ব্যবসা কিংবা চাকরির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই আয়ের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- আয়ের তথ্য শূন্য বা অস্পষ্ট রেখে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন প্রার্থীদের স্ত্রীরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, সংবিধান ও নির্বাচনী আইনে প্রার্থীদের হলফনামায় সম্পদ ও আয়ের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আয়ের ঘর শূন্য দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া স্বাভাবিক নয় এবং এটি স্পষ্টভাবে স্বচ্ছতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের তথ্য নির্বাচন কমিশনের জন্য সতর্কবার্তা। হলফনামা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না হলে কালোটাকার বৈধতা দেওয়ার পথ তৈরি হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের আস্থা ফেরাতে প্রার্থীদের আয় ও সম্পদের উৎস কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com