

বুন্দেসলিগায় চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত অপরাজিত বায়ার্ন মিউনিখ। রীতিমতো উড়ন্ত সূচনাই করেছে বাভারিয়ানরা। প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দেওয়া বায়ার্ন এবার প্রতিপক্ষকে গোলের মালা উপহার দিয়ে গড়ল রেকর্ডও।
গতকাল আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুন্দেসলিগায় ভলসবুর্গকে ৮-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা জার্মান জায়ান্টদের ভিন্ন ভিন্ন পাঁচ ফুটবলার গোল পেয়েছেন, দুটি গোল এসেছে আত্মঘাতি থেকে।
ঘরের মাঠে ম্যাচটি কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি ও উইঙ্গার মাইকেল ওলিসের জন্য বিশেষ—দুজনেই বুন্দেসলিগায় নিজেদের ৫০তম ম্যাচ খেললেন। আর বিশেষ এই ম্যাচটিই দুই গোল এক অ্যাসিস্টে রাঙালেন ওলিসে। বায়ার্নের হয়ে এই ম্যাচে গোল পেয়েছেন লুইস দিয়াজ, হ্যারি কেইন, রাফায়েল গুয়েরেইরো ও লিঁও গরেৎসকা। নিজেদের জালেই বল পাঠিয়েছেন ভলসবুর্গের ফুটবলার মরিটজ ইয়েন্ৎস ও কিলিয়ান ফিশার।
লিগে এ নিয়ে ১৬ ম্যাচ ১৩ জয় ও ২ ড্রয়ে শীর্ষে থাকা বায়ার্নের পয়েন্ট ৪২। দুইয়ে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুনন্ড থেকে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে গেল তারা। বুন্দেসলিগার ইতিহাসে এটিই সেরা সূচনা। এই ১৬ ম্যাচে হ্যারি কেনের দল করেছেন অবিশ্বাস্য ৬৩ গোল। বিপরীতে বিপর্যস্ত ভলসবুর্গ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৪ নম্বরে আছে। যা মৌসুমের এই পর্যায়ে তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
নিজেদের ডেরায় ৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিক বায়ার্ন। লুইস দিয়াজের বিপজ্জনক ক্রস ঠেকাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের জালেই বল জড়ান ভলসবুর্গ ডিফেন্ডার কিলিয়ান ফিশার। তিন মাস পর মাঠে ফিরে বড় এক ধাক্কায় খেলেন এই ডিফেন্ডার।
তবে ভেঙে না পড়ে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় উলফসবুর্গ। ১৩তম মিনিটে লোভরো মায়ারের বাড়ানো বল থেকে শান্ত মাথায় বায়ার্নের গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান দ্জেনান পেইচিনোভিচ। তবে সমতায় ফেরার পর দুঃস্বপ্নই অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য।
৩০তম মিনিটে লিড নেয় বায়ার্ন। মাইকেল ওলিসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন লুইস দিয়াজ, ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বায়ার্ন। দ্বিতীয়ার্ধে সফরকারীদের জালে থেমে থেমে বল পাঠাতে শুরু করে বায়ার্ন। প্রতিপক্ষের দূর্বল রক্ষণভাগের সুযোগ লুফে নেয় কোম্পানির দল।
৫০ মিনিটে একক নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়ান মাইকেল ওলিসে। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচের কোণায় দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করেন তিনি। মাত্র তিন মিনিট পরই অতিথিদের দুর্দশা আরও বাড়ে—ওলিসের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়ান মরিটজ ইয়েন্ৎস, স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪–১।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরো নিজেদের কাছে রাখা বায়ার্ন ৬৮ মিনিটে ব্যবধান ৫-১ করে। বদলি হিসেবে নামা কেইনের পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন রাফায়েল গেরেইরো। মুহূর্তের মধ্যেই নিজ নাম লেখান কেইন নিজেও—বক্সের কিনারা থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে বল জড়ান জালের উপরের কোণে।
৭৬ মিনিটে লুইস দিয়াজের থ্রু বল থেকে নিজের দ্বিতীয় এবং বায়ার্নের সপ্তম গোলটি করেন ওলিসে। নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট আগে লিয়ন গোরেতস্কা নিজের বুন্দেসলিগার ৫০তম গোল করে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।