বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন

পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রির ঘরে, হাড় কাঁপানো শীত

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার

কুয়াশা আর হিমালয় থেকে বয়ে আসছে হিমশীতল বাতাস। হাড় কাঁপানো শীতে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়েজনজীন স্থবির হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ে তেতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সকাল ৯টার দিকে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং বাতাসে আর্দ্রতার ছিল ১০০ শতাংশ। বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।

জেলাটিতে গত কয়েকদিন ধরে কুয়াশার সঙ্গে তাপমাত্রাও কমছে। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সকালে সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় চরম বিপাকে পড়েছেন খেটে-খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন।

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোরো ধানের বীজতলার চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে। চারা রোপণের আগেই শীত ও কুয়াশায় বীজতলার জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে।

জেলার বোদা উপজেলার বালাভীড় কৃষক হাবুল ইসলাম বলেন, ‘নিজের জমিসহ বর্গা নেওয়া এক একরের বেশি জমিতে বোরো ধান রোপণ করার জন্য বীজতলায় চারা রোপণ করেছি। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে চারাগুলো হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে। এ অবস্থা থাকলে চারা মরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চারাগুলো নষ্ট হলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

একই এলাকার কৃষক আব্দুল সাত্তার বলেন, ‘এমন শীত ও ঘন কুয়াশা কারণে বোরো চারা বড় হচ্ছে না। কিছু বীজতলায় ধান থেকে চারা জন্মায়নি। যদিও কিছু চারা গজিয়েছে। কিন্তু টানা কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা কারণে হলুদ ও লালচে রং হয়েছে। এমন পরিস্থিতি বেশি দিন থাকলে চারা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বীজতলা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

জেলার বোদা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন নবী জানান, তীব্র এই শীত ও ঘন কুয়াশায় কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে কিনা এজন্য বিভিন্ন এলাকার বোরো বীজতলা পরির্দশন করেছি। এ পর্যন্ত বোরো বীজতলায় বোরো চারার তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে কোনো কোনো বীজ তলা হলুদ বর্ণ হলেও রোদ উঠলে তা ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের বীজতলা কুয়াশার হাত থেকে রক্ষায় বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জীবসাম, পটাশ, জিংক কুইক ও চিলেটেড জিংক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বীজতলায় সকালে রশি টেনে শিশির ঝরানো, রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সন্ধ্যায় পানি জমিয়ে রেখে সকালে নিষ্কাশন করে দেওয়া ও গভীর নলকূপ দিয়ে পুনরায় পানি সেচ দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং বাতাসে আর্দ্রতার ছিল সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। এই জেলার উপর দিয়ে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা আরও নিম্নগামী হয়ে জেলাজুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com