

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭৬ প্রার্থী। এর মধ্যে ১১ প্রার্থীর নামে রয়েছে ১৬টি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
লাইসেন্সধারী ১১ প্রার্থীর মধ্যে আটজন বিএনপির, একজন জাতীয় পার্টির (জাপা) এবং দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর। অন্য কোনো প্রার্থীর নামে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেই। বিএনপির চার প্রার্থীর কাছে রয়েছে দুটি করে আগ্নেয়াস্ত্র।
হলফনামা অনুযায়ী, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামে একটি শটগান ও একটি রিভলবার রয়েছে। তিনি এগুলোর মূল্য দেখিয়েছেন ৫৫ হাজার টাকা। কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমির হোসেনের নামে রয়েছে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের দুটি আগ্নেয়াস্ত্র। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস মো. আবদুল মতিনের আছে ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি পিস্তল এবং ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শটগান। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের নামে রয়েছে দুই লাখ টাকা দামের একটি দোনলা বন্দুক ও একটি পিস্তল।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নামে রয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দামের একটি আগ্নেয়াস্ত্র। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের আছে এক লাখ টাকা দামের একটি শটগান। এ ছাড়া তার একটি পিস্তল চুরি হয়ে গেছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর নামে রয়েছে ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা দামের একটি রিভলবার ও একটি শটগান। একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের নামে আছে এক লাখ টাকা দামের একটি আগ্নেয়াস্ত্র। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদের নামে রয়েছে তিন লাখ টাকা দামের একটি আগ্নেয়াস্ত্র। তিনি আগে এলডিপির মহাসচিব ছিলেন। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের নামে রয়েছে একটি পিস্তল ও একটি শটগান।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালামের নামে আছে এক লাখ টাকা দামের একটি আগ্নেয়াস্ত্র।আগ্নেয়াস্ত্র বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে কুমিল্লা-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রও প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া উচিত। নচেত কেউ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে। তিনি জানান, তার নামে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ইতোমধ্যে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আনোয়ার হোসাইন বলেন, সরকারি নির্দেশনা পেলেই লাইসেন্স করা দুটি আগ্নেয়াস্ত্র থানায় জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রার্থীর নিরাপত্তার জন্য বিধি অনুযায়ী গানম্যান চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হলেও এখনও তা মঞ্জুর হয়নি। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, অতীতেও এ আসনে ভোটকেন্দ্রে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী কোনো প্রার্থী নিজেকে অনিরাপদ মনে করলে লাইসেন্স করা বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন, তবে তা প্রদর্শন করা যাবে না।