

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯২টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। তাদের মধ্যে ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে ৮৫ জন সাবেক সংসদ সদস্য, ১৯ জন সাবেক মন্ত্রী, ১০ জন নারী এবং গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। গতকাল গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কেন্দ্রীয় অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন,আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। এই প্রার্থীদের মধ্যে ৮৫ জনের ইতিপূর্বে সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা জনগণের সেবা করেছেন, জনগণের পাশে থেকেছেন। এ ছাড়াও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ১৯ জন ইতিপূর্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রার্থীদের এই অতীত অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ততা গণমানুষের দল বিএনপিকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও বিএনপি প্রার্থীদের সক্রিয়তা রয়েছে এবং ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। যা নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের দলীয় প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়া সত্ত্বেও একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি এমন রাজনৈতিক দল রয়েছে, যা হতাশাজনক ও দুঃখজনক।
গুমের শিকার প্রার্থীদের মনোনয়ন : মাহ্দী আমিন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সবচেয়ে বেশি গুম-খুন, নিপীড়ন, হামলা-মামলা এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে বিএনপি। গুম হয়েছিলেন এমন তিনজন প্রার্থীও রয়েছেন। তারা হলেন সালাউদ্দিন আহমেদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী। গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের মধ্যে রয়েছেন দুইজন প্রার্থী। তারা হলেন সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রশদীর লুনা এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন ও মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।
একটি দল ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করছে : মাহ্দী আমিন বলেন, একটি বিশিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এবং তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের কিছু পোস্ট এবং ভিডিও আমাদের সবার নজরে এসেছে। যেখানে বলা হচ্ছে, তাদের প্রতীককে জয়লাভ করানো মানে নিজের ঈমানকে জয়লাভ করানো এবং জান ও মাল দিয়ে সেই প্রতীককে জয়লাভ করানো ঈমানী দায়িত্ব। বলা হচ্ছে যে কবরে গিয়ে বলা যাবে দ্বীন কায়েমের জন্য সেই নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়া হয়েছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার এই অপপ্রয়াস অনাকাক্সিক্ষত। এটি দৃশ্যমান যে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগ ব্যবহার করে দেশের ভোটারদের প্রভাবিত করার এই চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা-নিরপেক্ষতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ’৭২-এর ৭৭/১ (গ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইন অনুযায়ী অসৎ প্রভাব বিস্তার হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে পরিণত হয়। তাই আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ প্রসঙ্গে : মাহ্দী আমিন বলেন, আপনারা জানেন নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলা ভোটারদের এনআইডি কার্ডের কপি, মোবাইল নম্বর এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। আমরা আশঙ্কা করছি, ইতোমধ্যে সংগৃহীত এসব ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে জাল ভোট, মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট প্রদান এবং ভোটারদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হতে পারে। দ্রুত এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ করা এবং এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন।
ভোটকেন্দ্রের আনসার-ভিডিডি সদস্য নিয়োগ প্রসঙ্গে : মাহ্দী আমিন বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভলান্টিয়ার ক্যাটাগরিতে ১৩ থেকে ১৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। যাদের একটা বড় অংশ স্থানীয় বাসিন্দা। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে তাদেরকে নিজ থানার বাইরে ভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।