

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভার পর পাল্টে যাচ্ছে রংপুর বিভাগের নির্বাচনি সমীকরণ। শুক্রবার রাতে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেন তারেক রহমান। এতে নির্বাচন সামনে রেখে এ অঞ্চলে দলের নেতা-কর্মীরা একদিকে যেমন উজ্জীবিত বোধ করছেন তেমনি সাধারণ ভোটাদের পালেও ধানের শীষের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সাধারণ ভোটারদের অভিমত, তারেক রহমানের জনসভা রংপুর বিভাগের বিএনপির অনেক প্রার্থীকে জয়ী হতে সহজ করবে। সব মিলিয়ে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগের আনুমানিক পরিসংখ্যানের চেয়ে ধানের শীষের প্রার্থীরা এখন অনেক এগিয়ে রয়েছেন। রংপুরে ধানের শীষের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের। তবে দুয়েকটি আসনে জাতীয় পার্টিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারে। কয়েকটি আসনের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি করপোরেশন) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। এ আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ও জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজীর মধ্যে। রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম ম ল ও বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে জাতীয় পার্টির জি এম কাদের, বিএনপির সামসুজ্জামান সামু এবং জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলালের মধ্যে ত্রিমুত্রী লড়াই হবে। তবে বিএনপি চেয়ারম্যানের জনসভার পর এ আসনে ধানের শীষের পালে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে আছেন বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা, জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী প্রচারে এগিয়ে আছেন। রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও এ দুই দলের মধ্যে কঠিন লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পঞ্চগড়-১ (সদর) আসনে বিএনপি ও এনসিপি এবং পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই। এদিকে ঠাকুরগাও-১ (সদর) আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে মূলত লড়াই হবে। এখানে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঠাকুরগাঁও-২ ও ৩ আসনেও এ দুই দলের মধ্যে মূল লড়াই হবে। তবে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি। দিনাজপুর-১ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে। দিনাজপুর সদর আসনেও জামায়াত প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। এ আসনে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপি ও এনসিপি প্রার্থীর ভোট যুদ্ধ হবে। দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী এবং জামায়াত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। নীলফামারী-২ আসন ডোমার-ডিমলা বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী রয়েছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। নীলফমামরী-৩ জলঢাকা বিএনপি প্রার্থী এবং জামায়াত প্রার্থী, নীলফামারী-৪ আসন সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ। এখানে বিএনপি জোট প্রার্থী, জাতীয় পার্টির প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
লালমনিরহাট-১ এবং ২ আসনেও বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থী প্রচারে এগিয়ে। এ দুই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর লালমনিরহাট-৩ আসনে বিএনপির আসাদুল হাবিব দুলু ও জামায়াতের আবু তাহেরের মধ্যে লড়াই হবে। তবে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
কুড়িগ্রাম-১ আসনেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যেই প্রধানত লড়াই হবে। তবে এ আসনে বিএনপি প্রার্থী প্রচারে অনেক এগিয়ে। কুড়িগ্রাম-২ আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশি। কুড়িগ্রাম-৪ আসনেও এ দুই দলের মধ্যে মূল লড়াই হবে। লক্ষণীয় হলো- এ দুই দলের প্রার্থী সম্পর্কে আপন ভাই। তবে বিএনপির প্রার্থী মাঠে ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
গাইবান্ধার অধিকাংশ আসনে বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যেই মূল লড়াই হবে। গাইবান্ধা-৫ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর প্রভাব রয়েছে।
অপরদিকে মাঠপর্যায়ের একটি জরিপে উঠে এসেছে, রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কমপক্ষে ২২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী, তৃতীয় অবস্থানে জাতীয় পার্টি। রংপুর সদর আসনের প্রার্থী সামছুজ্জামান সামু বলেন, আমরা রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার এসেছে। আশা করি, এ বিভাগের মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রার গতি বৃদ্ধি করবে।