

আর কোনো স্বপ্ন নয়, এবার সত্যি হতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের বুকে ‘বাংলাদেশ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা। দেরীতে হলেও প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পর অবশেষে বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কার্যকরী কমিটির উদ্যোগে নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ সেন্টার’ অথবা ‘বাংলাদেশ ভবন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকায় ব্যস্ত লোকেশনে কেনা হচ্ছে বিশাল ভবন। এটি কিনতে খুব শিগগির বিক্রেতার সঙ্গে বাংলাদেশ 
সোসাইটির চুক্তি হতে যাচ্ছে। একাধিক দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কার্যকরী কমিটির সবকটি পদে বিজয়ী সেলিম-আলী প্যানেলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ সেন্টার’ বা ‘বাংলাদেশ ভবন’প্রতিষ্ঠার। দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করছে বর্তমান কার্যকরী কমিটি। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শাহনেওয়াজ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার 
পর ভবন কেনার প্রক্রিয়া সহজ হয়ে যায়। তিনি প্রাথমিক অর্থ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন, যা প্রায় আড়াই লাখ ডলার। তবে কোন প্রক্রিয়ায় তিনি এই অর্থ দিচ্ছেন তা জানা সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত তিনটি প্রাইম লোকেশনে ভবন দেখা হয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ এবং কার্যকরী কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা এসব ভবন পরিদর্শন করেছেন। তবে জ্যামাইকায় হিলসাইডে 
একটি বিশাল ও চালু ভবন পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। ভবনটি কিনতে হলে প্রয়োজন হবে প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার। প্রাথমিকভাবে দিতে হবে প্রায় ৫ লাখ ডলার। এরমধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ। অবশিষ্ট আড়াই লাখ ডলার ফান্ডরেইজিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিশাল ওই ভবনটি কেনা হলে সেখানে গড়ে তোলা হবে বাংলাদেশ সেন্টার বা বাংলাদেশ ভবন, যেখানে থাকবে বড় কমিউনিটি সেন্টার, বাংলা স্কুল, জিমসহ বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান কার্যালয়। এই ভবনের অর্থের সংকুলানে বর্তমানে এলমহার্স্টের হুইটনি অ্যাভিনিউতে নিজস্ব ভবন বিক্রি করা হবে কীনা সে ব্যাপারে কোনো প্রাথমিক আলোচনা হয়নি। তবে ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে বল সূত্রটি জানিয়েছে।

চলতি বছর বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরপূর্তি উদযাপন করা হবে। ওই উৎসবে ভবন কেনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ সোসাইটির একজন কর্মকর্তা জানান, ভবনটি কেনার প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ মত দিয়েছেন 
বাংলাদেশ সোসাইটির নামে, আবার কেউ যুক্তি দেখিয়েছেন ব্যক্তির নামে কেনার প্রয়োজন হতে পারে। যেহেতু ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ প্রাথমিক অর্থ দিচ্ছেন, সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে তার নামেও কেনা হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
ওই কর্মকর্তা বলছেন, কার নামে কেনা হলো সেটা বড় বিষয় নয়। আসল কথা হচ্ছে- বাংলাদেশ সোসাইটি প্রবাসীদের স্বপ্নপূরণের সারথী হচ্ছে।
