

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি করায় সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি। মামলায় ফেসবুক, গুগল, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টে দাখিল করা ৩২৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটা প্ল্যাটফর্মস, গুগল ও ইউটিউবের মালিক অ্যালফাবেট, স্ন্যাপচ্যাটের মালিক স্ন্যাপ, এবং টিকটকের মালিক বাইটড্যান্সের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা গুরুতর অবহেলা করেছে এবং জনস্বার্থের ক্ষতি করছে। যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি এমন মামলায় অন্যতম বাদী হিসেবে যোগ দিয়েছে নিউ ইয়র্ক সিটি। প্রায় সাড়ে ৮ লাখ জনসংখ্যার শহরটির মধ্যে প্রায় ১৮ লাখের বয়স ১৮ বছরের নিচে। শহরটির শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগও এই মামলার বাদী হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
গুগলের মুখপাত্র হোসে কাস্তানেদা বলেন, ইউটিউব সম্পর্কিত অভিযোগগুলো একেবারেই সত্য নয়। কারণ এটি স্ট্রিমিং সেবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়। অন্য অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো মন্তব্যের অনুরোধে তৎক্ষণাৎ সাড়া দেয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে ডিজাইন করেছে যা কিশোরদের মনস্তত্ত্ব ও স্নায়ু দুর্বলতা কাজে লাগায় এবং মুনাফার উদ্দেশ্যে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে প্ররোচিত করে।
নিউ ইয়র্ক সিটির ৭৭.৩% উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং ৮২.১% মেয়ে শিক্ষার্থী প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি টিভি, কম্পিউটার ও স্মার্টফোনে কাটায়, যা ঘুমের অভাব ও স্কুলে অনুপস্থিতি বাড়াচ্ছে। শহরটির স্বাস্থ্য কমিশনার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সোশ্যাল মিডিয়াকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক ঘোষণা করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এর ফলে শহর ও এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় আরও বেশি করের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
শহরটি আরও অভিযোগ করেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে সাবওয়ে সার্ফিং (চলন্ত ট্রেনের উপরে বা পাশে চড়া) বেড়েছে। ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ১৬ জন সাবওয়ে সার্ফার মারা গেছে, যার মধ্যে এ মাসেই ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটি বলছে, অভিযুক্তদের জবাবদিহি করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাদীদেরই এই জনদুর্ভোগ দূর করতে ও খরচ বহন করতে হচ্ছে।