

নিউইয়র্ক শহরের ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচন নিকটবর্তী, যেখানে নাগরিকরা শহরের নতুন মেয়র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের ভোট দেবেন। নির্বাচনের ফলাফল শুধু স্থানীয় রাজনীতি নয়, পুরো শহরের নীতি ও নৈতিক দিকেও প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে এসেছে।
নিউইয়র্কের ভোটাররা ৪ নভেম্বর, ২০২৫ মঙ্গলবার নির্বাচন দিবেন। তবে আগেভাগে ভোটের সুযোগ ২৫ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত থাকবে। নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো শহরের নেতৃত্ব নির্ধারণ করা এবং নাগরিকদের সেবা, নীতি ও শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ভোটের মাধ্যমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন জোহারান মামদানি, অ্যান্ড্রু কুমো, কুরটিস স্লিওয়া এবং ইরিক অ্যাডামস (যিনি পরে পুনঃনির্বাচনের দৌড় থেকে সরে আসেন)।
সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের জরিপে দেখা গেছে, জোহারান মামদানি ধারাবাহিকভাবে ডাবল-ডিজিট লিড ধরে রেখেছেন। উদাহরণস্বরূপ, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে মামদানি অ্যান্ড্রু কুমোর বিরুদ্ধে ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩৩ শতাংশ-এর উপরে রয়েছে। সাবেক মেয়র ইরিক অ্যাডামস যখন পুনঃনির্বাচনের দৌড় থেকে সরে আসেন, তখন তার সমর্থকরা মূলত কুমোর দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। আগের জরিপে কুমোর সমর্থন ছিল ২৩ শতাংশ, তবে অ্যাডামস না থাকলে কুমো পেলেন ৩০ শতাংশ এবং মামদানি ৪৬ শতাংশ। অন্যান্য জরিপ যেমন প্যাট্রিয়ট পোলিং, গ্যাথম পোলিং, বীকন রিসার্চ ইত্যাদিতে মামদানি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এগিয়ে ছিলেন, যদিও তার লিড কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির সময় জরিপগুলো প্রাথমিকভাবে মামদানির সমর্থন যথাযথভাবে ধরতে পারেনি। প্রথম রাউন্ডে তিনি লিডে ছিলেন না, তবে শেষ সপ্তাহগুলিতে সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং র্যাঙ্কড-চয়েস ভোট গণনার পরে মামদানি ৫৬ শতাংশ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন পোলস্টার নিশ্চিত করেছেন যে এই জরিপগুলো নিরপেক্ষ উৎস থেকে সংগৃহীত এবং প্রায়শই নির্বাচনের পূর্বাভাসের জন্য নির্ভরযোগ্য।
নাগরিকরা মেয়র নির্বাচন ছাড়াও পাবলিক অ্যাডভোকেট, কম্পট্রোলার, বরো প্রেসিডেন্ট এবং সিটি কাউন্সিলের সদস্যদেরও ভোট দেবেন। কিছু ক্ষেত্রে সিভিল কোর্টের বিচারক নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে মামদানি কনি আইল্যান্ডে সকার টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন এবং কুইন্স কলেজে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। কুমো তাঁর বিরোধীদের বিভিন্ন নীতি ও সামাজিক ইস্যুতে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যেমন সমলিঙ্গ বিবাহ আইন। নিউইয়র্কের এই নির্বাচনের ফলাফল শহরের ভবিষ্যৎ নীতি, নগর উন্নয়ন ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তথ্যসূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস