

ইতালিতে নারী হত্যাকে পৃথক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আজীবন কারাদণ্ডের বিধানযুক্ত নতুন আইন পাস করেছে দেশটির সংসদ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জুলিয়া চেচেত্তিন হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক নারী হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র জনঅসন্তোষ তৈরি হওয়ার পর সরকার এই কঠোর আইন প্রণয়ন করল।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে অর্থায়ন বৃদ্ধি, জরুরি হটলাইন ও সচেতনতা কার্যক্রমসহ আরও ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যা দেশের ফৌজদারি আইনে নারী হত্যাকে (ফেমিসাইড) পৃথক অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এর শাস্তি আজীবন কারাদণ্ড নির্ধারণ করেছে।
এপি’র এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ভোটটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ঘোষিত নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবসের সঙ্গে মিল রেখে অনুষ্ঠিত হয়।
নিম্নকক্ষের চূড়ান্ত ভোটে কেন্দ্রে-ডান ক্ষমতাসীন জোট ও কেন্দ্রে-বাম বিরোধী দল উভয়ের সমর্থনে আইনটি পাস হয়। এতে ২৩৭টি ভোট পক্ষে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল সরকারের সমর্থিত এই আইনটি ইতালিতে সাম্প্রতিক সময়ে নারী হত্যা ও নারীদের লক্ষ্য করে সহিংসতার ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে আনা হয়েছে। এতে স্টকিং, রিভেঞ্জ পর্নসহ লিঙ্গভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থার বিধান রয়েছে।
২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জুলিয়া চেচেত্তিনকে হত্যার ঘটনা-ইতালির পিতৃতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার কারণ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক জনসমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মেলোনি বলেন, ‘আমরা অ্যান্টি-ভায়োলেন্স সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর জন্য অর্থায়ন দ্বিগুণ করেছি, জরুরি হটলাইন চালু করেছি এবং শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক নতুন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি। এগুলো বাস্তব অগ্রগতি, কিন্তু এখানেই থামা যাবে না। আমাদের প্রতিদিন আরও অনেক কিছু করতে হবে।’