

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সব সময় আলোচনায় থাকেন। তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। তবুও তিনি এই বিতর্কের বাইরে যান না। চার দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি এভাবেই নিজেকে চাঙ্গা রেখেছেন। রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন, শাহজাহান চৌধুরী নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতেই এই কৌশলে আগান। অথচ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এক বছর আগে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমিরের পদ হারিয়েছেন। সর্বশেষ কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে তিনি নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) নির্বাচনী এলাকার জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একাধিক জামায়াত নেতা বলেছেন, আগামী তিন থেকে চারদিনের মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। আবার কারণ দর্শানোর জবাবের পরও এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে জামায়াতে ইসলামীÑ এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন কিছু নেতা। সেক্ষেত্রে নতুন প্রার্থী হতে পারেন জামায়াতের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলাম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি এ আসন (তখন এটি ছিল চট্টগ্রাম-১৪) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
গত ২২ নভেম্বর নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে শাহজাহান চৌধুরী- ‘নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রশাসনের লোকজন আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে’ বলে বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন। ওই বক্তব্যের জন্য গত ২৪ নভেম্বর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাতে ৭ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ৭ নভেম্বর সাতকানিয়ার কাঞ্চনা ইউনিয়নে এক নির্বাচনে জনসভায় শাহজাহান চৌধুরী নিজেকে চট্টগ্রামের অভিভাবক বলে দাবি করে বলেন, ড. ইউনূসই তাকে এই নামে সম্বোধন করেছেন।
শাহজাহান চৌধুরীর বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়া উদ্দিন বলেন, সরকারের কাছ থেকে কোনো লিখিত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জাঁদরেল নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে পরাজিত করেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপির তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল অলি আহমেদের কাছে তিনি পরাজিত হন। আবার ২০০১ সালে তিনি কর্নেল অলিকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় সরকারে বিএনপির সঙ্গে অংশীদার ছিল জামায়াতে ইসলামী। এলাকায় বিএনপির সঙ্গে শাহজাহান চৌধুরীর দ্বন্দ্বের কারণে দুই সংগঠনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। সে সময় শাহজাহান চৌধুরীর এক সময়ের শিষ্য ও পরে বিএনপিতে যোগ দেওয়া তরুণ নেতা আহমদুল হক চৌধুরী র্যাবের ক্রসফায়ারে মারা যান। তার জন্যও বিএনপি শাহজাহান চৌধুরীকে অভিযুক্ত করেছিল। শাহজাহান চৌধুরীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে ২০০৮ সালে জামায়াতে ইসলামী তাকে দলের মনোনয়নও দেয়নি। মনোনয়ন পান চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের তৎকালীন আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম। তিনি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য শাহজাহান চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।