বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

হাসিনা-জয়-পুতুলের প্লট ‎দুর্নীতির মামলার রায় ঘিরে আদালতে নিরাপত্তা জোরদার

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা বহুল আলোচিত তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায়। রায় ঘিরে আদালত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে আদালতের প্রধান ফটকগুলোতে।

এজলাস এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ জনতার উপস্থিতিও বেশি দেখা গেছে।

মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের দুই প্লাটুন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সঙ্গে রয়েছেন বিজিবির আরও দুই প্লাটুন সদস্য।’

ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করবেন। ‎গত ২৩ নভেম্বর একই আদালত মামলাগুলোর যুক্তিতর্কের শুনানির পর এ রায়ের তারিখ ঠিক করা হয়।

‎‎৩ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৩ জন আসামি। যার মধ্যে রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কারাগারে আছেন। অপর আসামিরা পলাতক রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ৩টি মামলারই আসামি। জয় ও পুতুল একটি করে মামলার আসামি। আর রাজউক কর্মকর্তাদের শফিউলক হক, নায়েব আলী শরিফ, মাজহারুল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম একটি করে মামলার আসামি। অপর আসামিরা ৩ মামলারই আসামি।

‎‎মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফি উল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, রাউউকের সাবেক উপ-পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপপরিচালক হাবিবুর রহমান, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) কামরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন।

‎‎মানবতা বিরোধী অপরাধের একটি হত্যা মামলায় গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান থান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।‎

‎রায়ে প্রত্যাশা সম্পর্কে প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান (লিপন)জানান, আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করেছি। আশা করছি, আদালত থেকে সর্বোচ্চ সাজাটাই আসবে।

‎‎প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। মামলাগুলোয় গত ৩১ জুলাই শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে গঠন করেন আদালত। একই সঙ্গে সকল আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এরপর ২টি আদালতে মামলাগুলোর বিচার শুরু হয়। মামলার বিচারচলাকালে আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

‎‎মামলার চার্জশিটে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার ৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

‎শেখ হাসিনার নামে ১০ কাঠার প্লট (প্লট নম্বর ৯) রয়েছে, যা রাজউক তাকে ২০২২ সালের ৩ আগস্ট বরাদ্দপত্র দেয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের (প্লট নম্বর ১৫) বরাদ্দপত্র ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর হয় এবং ১০ নভেম্বর মালিকানা-সংক্রান্ত রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বরাদ্দপত্র দেওয়া হয় ২০২২ সালের ২ নভেম্বর। মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ৪০৯, ৪২০ এবং ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারাগুলোর মধ্যে ঘুস গ্রহণ, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, সরকারি সম্পদ বা আমানতের অপব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধ সংঘটনে সহায়তা দেওয়ার বিষয় রয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায়ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অসাধু উপায়ে সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।‎

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com