

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের পর টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্টি হওয়া বিপর্যয়কর বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শনিবার দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর সপ্তাহজুড়ে চলা প্রবল বর্ষণে সুমাত্রার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিম সুমাত্রার আগাম জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই জেলায় এখনো শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত এলাকাগুলোতে এ পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অনেক স্থানে রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোকে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে নদী, কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে লড়াই করে এগোতে হচ্ছে।
থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যায় নিহত বেড়ে ১৬২, জরুরি ত্রাণ নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
উদ্ধারকারীরা জানান, একাধিক গ্রাম পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং অনেক ঘরবাড়ি ভূমিধসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে দুর্গত এলাকায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া এখনো অনুকূলে না থাকায় উদ্ধারকাজে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া সরকার ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে জরুরি ত্রাণ বিতরণ, অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন এবং চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।