সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন

গণমানুষই বিজয়ের স্বপ্নসুন্দর

দীপু মাহমুদ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৮ বার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল ‘গণযুদ্ধ’। এখানে ‘প্রফেশনাল’ যুদ্ধের শর্ত পূরণ করে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়া হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সব অ্যাকশন ছিল গেরিলা পদ্ধতির। সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিককর্মীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। দেশ স্বাধীন করতে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়েছেন। কোনো গ্রাম বা এলাকা তখন নিরাপদ ছিল না। পাকিস্তানি বাহিনী সব জায়গায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। লুটপাট করেছে। আগুন দিয়েছে। গ্রামের মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। তারা জায়গা দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন এবং  খবরাখবর আনা-নেওয়ার কাজ করেছেন। দিন বা রাতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছেন। যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেই, হাতে অস্ত্র নেই, গায়ে যোদ্ধার পোশাক বা পায়ে জুতা নেই। তবু সেই সাধারণ মানুষ রওনা হয়ে গেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গোলাবারুদের ভারী ব্যাগ হাতে। রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ পেলে পাকবাহিনীর কাছে গিয়ে বলে দিত। কেউ দেখে ফেলতে পারে, সেই আশঙ্কায় মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতেন না। এমনকি অনেকে দিনের বেলা গোসলও করতেন না। রাতে বের হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা হামলা চালাতেন। বেশিরভাগ সময় পরনের ভেজা কাপড় শরীরেই শুকাতেন। না হয় কোনো সময় আগুনে শুকিয়ে নিতেন। এক কাপড়ে কাটাতে হয়েছে মাসের পর মাস। মুক্তিযোদ্ধারা কখনো দল ধরে একই গ্রাম কিংবা এক বাড়িতে থাকতেন না। কারণ এর সঙ্গে  নিরাপত্তার ব্যাপার জড়িত ছিল। দেশ স্বাধীন করার জন্য সাধারণ মানুষই লড়ে গেছেন মুক্তির লড়াই। এখানে মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ পাঁচজন মানুষের কথা উল্লেখ করা হলো।

তাগড়া : সবাই তাকে তাগড়া নামে ডাকে। সমুদ্র উপকূলের চরাঞ্চলে তার বাড়ি। বাবা-মায়ের দেওয়া নাম হারিয়ে গেছে সেই কবে। বয়স ছাব্বিশ বছর। চর দখলের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেয়। সুন্দরবন এলাকা থেকে একদল মুক্তিযোদ্ধা বরিশালের দিকে যাচ্ছেন। দীর্ঘ পথচলায় তারা ক্লান্ত। কখনো নৌকা, কখনো গরুর গাড়ি বাকি পথ পায়ে হাঁটা। মুক্তিযোদ্ধা দল এসে পৌঁছায় কোদালধোয়। সুন্দরবনের পাশের একটি গ্রাম। ঠিক তখনই আচমকা অপরদিক থেকে এগিয়ে আসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি দল। সহসা শত্রুর মুখোমুখি পড়ে গেছে মুক্তিযোদ্ধা দল। শুরু হয়েছে গোলাগুলি। অবিশ্রান্ত গোলাগুলি চলেছে অনেকক্ষণ। তারপর সব চুপচাপ। সুনসান চারপাশ।  খানিকবাদে সামনে এগিয়ে এলো এক বিশালদেহী পাকিস্তানি সৈনিক। তার হাতে এসএমজি। কেউ তাকে গুলি করেনি। হঠাৎ সে চিৎকার করে উঠল, ‘হ্যায় কোয়ি মা কি লাল? মা কি দুধ পিয়া হো তো বেগায়ের হাতিয়ারকে সামনে আ যাও।’ (আছ কোনো মায়ের ছেলে? মায়ের দুধ যদি খেয়ে থাক, তাহলে বিনা অস্ত্রে সামনে এগিয়ে এসো)। এই কথা শেষ করে সেই পাকিস্তানি সৈন্য তার হাতের এসএমজি ছুড়ে ফেলে দিল। তারপর একটানে ইউনিফর্মের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলল। গা থেকে শার্ট খুলে সেটাও ছুড়ে ফেলে দিল। সে এগিয়ে আসছে সামনে। সেখানে ছিল তাগড়া। পরনে লুঙ্গি। উদোম গা। তার আর সহ্য হলো না। শত্রুসেনা মল্লযুদ্ধে আহ্বান জানিয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।  দাঁড়িয়ে পড়ল তাগড়া। লুঙ্গির কোঁচা গুঁজতে গুঁজতে সে চিৎকার করে বলল, ‘মর্দো মনে হরছে কী? বাঙালিগো মধ্যে কি কেউ নাই যে, ওর লগে বোঝতে পারে? মেবাই (মিয়াভাই) তাগড়ারে আর ধইরা রাখতে পারলেন না। হালার পো হালায় বে-জাগায় হাত দেছে।’ বলে তাগড়া এগিয়ে গেল পাকিস্তানি সেই সৈন্যের দিকে। ওপাশে পাকিস্তানি সৈন্য। এপাশে মুক্তিযোদ্ধা। দুদলই নিঃশব্দ। কোথাও কোনো সাড়া নেই। কয়েক মুহূর্ত তাগড়া আর ওই পাকিস্তানি সৈন্য মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকল। আচমকা তাগড়া তার ডান হাতের খোলা আঙুলের সজোর থাবা বসিয়ে দিল পাকিস্তানি সৈন্যের বাঁ বুকে। প্রচণ্ড থাবার তাল সামলাতে পারল না ওই পাকিস্তানি সৈনিক। পড়তে পড়তে দুই পা পিছিয়ে গেল। তাগড়াও পিছিয়ে এলো কয়েক পা। তখন দুজনের মাঝখানে দূরত্ব প্রায় ১০ হাত। এমন সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা গুলি ছুড়ল। তারা গোপন জায়গা থেকে কাপুরুষের মতো গুলি ছুড়েছে তাগড়াকে লক্ষ্য করে। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের কয়েক রাউন্ড গুলি এসে ঝাঁজরা করে দিল তাগড়ার বুক। তাগড়া মুখ থুবড়ে বুকের ওপর ভর দিয়ে মাটির ওপর পড়ে গেল। সে আর নড়েনি। পাকিস্তানি সৈনিক লাফ দিয়ে চলে গেল নিজ আস্তানায়। তারপর ঘটনা ঘটেছে খুব দ্রুত। হাজার হাজার এলাকাবাসী এগিয়ে এলো সামনে। তারা সবাই নিরস্ত্র। তাদের বুকে সাহস আর ক্ষোভ। চোখে আগুন, ক্রোধ। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সামান্য কয়েকটি অস্ত্র। বীর বাঙালির আক্রমণের মুখে টিকতে পারেনি পাকিস্তানি সৈন্যরা। তারা অনেকেই মারা পড়েছে। বাকিরা বন্দি হয়েছে।

মহিউদ্দীন : ১৯৭১ সাল। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ। ফার্স্ট ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ৬০০ তরুণকে নেওয়া হবে। তারা দেশের জন্য যুদ্ধ করবে। খবর পেয়ে শত শত ছেলে এসেছে। তারা যুদ্ধ করতে চায়। তাদের বয়স পনেরো থেকে পঁয়তাল্লিশ বছর। পরনে ময়লা কাপড়। শীর্ণ দেহ। চোখে অসীম সাহস। রেজিমেন্টে সৈনিক হিসেবে নিয়োগের প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে, ব্যক্তির উচ্চতা হতে হবে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষায় পাস করতে হবে। দেখা গেল, শারীরিক উচ্চতা কম হওয়ায় এবং ডাক্তারি পরীক্ষায় অনেকেই বাদ পড়ছেন। তবে তারা কেউ মেনে নিতে চাইছেন না। তারা বলছেন, ‘আমরা সৈনিক হতে চাই না। একটা অস্ত্র দেন। যুদ্ধ করব।’ তারা দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হতে চান। তারা কেউ কেউ কাঁদছেন। কেউ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। রিক্রুটিং অফিসার ক্যাপ্টেন হাফিজের জিপের সামনে শুয়ে পড়েছেন হালকা পাতলা গড়নের ছোটখাটো একজন ছেলে। তাকে শারীরিক উচ্চতার জন্য বাদ দেওয়া হয়েছে। তার নাম মহিউদ্দীন। যশোরে বাড়ি। মহিউদ্দীন বললেন, ‘হয় আমাকে যুদ্ধ করতে দিন, নয়তো আমার গায়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিন। আমি নড়ব না।’ মহিউদ্দীনের কথা হচ্ছে, এভাবে উচ্চতা মেপে যুদ্ধের জন্য তরুণ নির্বাচন করা যাবে না। এটা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই। আমাদের হাতে একটা করে গ্রেনেড দেন, শত্রুর বাঙ্কার দেখিয়ে দেন, যে একা এগিয়ে গিয়ে শত্রুর বাঙ্কারে গ্রেনেড ছুড়ে আসতে পারবে তাকেই যুদ্ধের জন্য নির্বাচন করবেন। শারীরিক উচ্চতা না, সাহসের পরীক্ষা নিন। ক্যাপ্টেন হাফিজ মহিউদ্দীনের সাহস আর তেজ দেখে মুগ্ধ হলেন। দেশের জন্য এমন অকুতোভয় ছেলের দরকার আছে। মহিউদ্দীনকে সৈনিক হিসেবে ভর্তি করে নেওয়া হলো। আজমল : শিকারপুর ইয়ুথ ক্যাম্প। যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তরুণদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আজমল এসেছে যশোর থেকে। তার উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট। বয়স ২৫ বছর। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তুমি কী করো?’ আজমল হেসে বলল, ‘স্যার, বিলাক করি। মাথায় করে এপারের মাল সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাই। ওপারের মাল এপারে নিয়ে আসি।’ আজমলকে নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধে রেকি করার সময় সে থাকে সামনে। এক দিন বিকেলবেলা। রেকি করার সময় সে একা পাকিস্তানি সেনাদের বাঙ্কারের একদম কাছে চলে গেছে। আজমল খেয়াল করেনি। খেয়াল করেছে যখন একজন পাকিস্তানি সৈন্য তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চট করে আজমল নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছে। সেও পাল্টা আক্রমণ করেছে। শুরু হয়েছে দুজনের ধস্তাধস্তি। দুজনেরই অস্ত্র ছিটকে পড়েছে। বাকি পাকসেনারা আজমলকে গুলি করতে পারছে না। সে জাপটে ধরে আছে পাকিস্তানি ওই সৈনিককে। গুলি করলে গুলি তার গায়ে লাগতে পারে। অন্য পাকসেনারা গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এলো সামনে। আজমল তার সঙ্গে থাকা পাকিস্তানি সৈন্যকে আচমকা শূন্যে তুলে ধরল। সামনের দিকে রাখল তাকে। যেন পাকিস্তানি সৈন্যরা গুলি করতে না পারে। এরপর আজমল পাকিস্তানি সৈন্যকে অন্য পাকিস্তানি সৈন্যদের দিকে রেখে দৌড়াতে থাকল। তখন গুলি শুরু করেছে পাকিস্তানি সেনারা। বৃষ্টির মতো গুলি। আজমল দৌড়াচ্ছে। দৌড়াতে দৌড়াতে আজমলের পরনের লুঙ্গি খুলে গেল। সে হয়ে পড়েছে পুরো দিগম্বর। উদোম আজমল দৌড় থামায়নি। সে পাকিস্তানি সৈন্যকে ঢাল বানিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে। সেই পাকিস্তানি সৈনিক হাত-পা ছুড়ে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছে।
তৈয়ব আলী : তার নাম তৈয়ব আলী। বেটে-খাটো একজন ছেলে। শরীরের গঠন বেশ মজবুত। লেখাপড়া করেনি। সে যুদ্ধ করছে ২ নম্বর সেক্টরে। তৈয়ব আলী একটা এলএমজির জন্য ক্যাপ্টের হায়দারের কাছে অনুনয়-বিনয় শুরু করল। সে এলএমজি নিয়ে যুদ্ধ করতে চায়। তখন এলএমজি সহজে পাওয়া যায় না। তা ছাড়া এই অস্ত্র সহজে লুকানো যায় না। তাই সাধারণ কাউকে এই অস্ত্র দেওয়া হয় না। তৈয়ব আলীর কাকুতি মিনতি থামে না। ক্যাপ্টেন হায়দার বললেন, ‘যুদ্ধ আগে কিছু করো। এলএমজি পাবে।’ কিছুদিন পর তৈয়ব আলী এসে হাজির। সে দাঁড়িয়ে আছে, ক্যাপ্টেন হায়দারের সামনে। তার মুখে গর্বিত হাসি। তৈয়ব আলীর হাতে গামছা। ক্যাপ্টেন হায়দার জানেন না, সেই গামছায় কী বাঁধা আছে। তৈয়ব আলী গামছা খুলে সামনে মেলে ধরলেন। তিনি পাকিস্তানি মিলিটারি পুলিশের একজন ক্যাপ্টেনকে হত্যা করে তার ব্যাজেজ অব র‌্যাঙ্ক, সাদা বেল্ট, লাল টুপি, বুট, পাউচসহ পিস্তল নিয়ে এসেছে। সেগুলো সে ক্যাপ্টেন হায়দারকে দিয়ে বলল ‘স্যার, যুদ্ধ কইরা আইছি। এবার আমারে একটা এলএমজি দ্যান।’

মাহমুদুর রহমান বেনু : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক মাহমুদুর রহমান বেনু। তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে যুদ্ধে গেছেন। সাধারণ সিপাই হিসেবে ভর্তি হয়েছেন ফার্স্ট ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। বেনু মাইন লাগান, ব্রিজ উড়িয়ে দেন। ক্যাম্পের শক্ত মাটিতে শুয়ে রাত কাটিয়ে দেন। প্লাটুন কমান্ডার হাবিলদার তাজুল কীভাবে যেন বেনুর পরিচয় জেনে গেলেন। তিনি এসে দাঁড়ালেন ক্যাপ্টেন হাফিজের সামনে। স্যালুট দিয়ে বললেন, স্যার, একটা কথা জানতে চাই।’ ক্যাপ্টেন হাফিজ বললেন, ‘বলো কী ব্যাপার?’ ‘স্যার, নতুন রিক্রুট নাকি আপনার বন্ধু?’ ‘হ্যাঁ। এতে কিছু যায় আসে না। সে তোমার অধীনস্থ রিক্রুট।’ ‘স্যার, বেনু সাহেব নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। উনাকে অর্ডার দিতে শরম লাগে। কড়া কথাও বলতে পারি না।’ কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক মাহমুদুর রহমান বেনু যুদ্ধের হুকুম নিতে লজ্জাবোধ করেননি, স্বল্পশিক্ষিত একজন হাবিলদারের কাছে। তিনি এসেছেন শত্রুর কবল থেকে বাংলাদেশ মুক্ত করতে। তার জন্য তাকে যত মূল্যই দিতে হোক, কোনো সমস্যা নেই। মূলত এভাবেই পার হয়েছে দীর্ঘ ৯ মাস। এক দিন পরই সেই বিজয়ের দিন।  আমরা যেন এই অগ্নিপুরুষদের ভুলে না যাই। যাদের জন্যই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। কোনো দল নয়, মানুষই বিজয় স্বপ্নসুন্দর।

লেখক: চাইল্ড কেয়ার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন কনসালট্যান্ট,  ইউনিসেফ

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com