

পৌষ মাসের শুরুতেই দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শীত জেঁকে বসেছে। হিমেল বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে জনপদ। তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। সূর্যের দেখা মিলছে না দিনের পর দিন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপও। পঞ্চগড়, নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুর ও বগুড়া প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
পঞ্চগড় : দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে পৌষের শুরুতেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হিম শীতল বাতাস আর ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন পুরো এলাকা। গতকাল রবিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যায়, শীতের কাপড় ছাড়া বাইরে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। হাটবাজারে লোকসমাগম কমেছে। শীত বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
নওগাঁ : নওগাঁয় হিমেল হাওয়া ও কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। এদিন সকাল ৯টায় বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভ্যানচালক ও দিনমজুররা বলেছেন, শীতের মধ্যে কাজ করা কষ্টকর হলেও পেটের দায়ে বের হতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা : সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের ও রাতের তাপমাত্রা কাছাকাছি থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
হিলি (দিনাজপুর) : হিলিতে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে। সূর্যের দেখা না মেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সড়কে যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। শীতজনিত রোগে হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে।
বগুড়া : এদিন সকালে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।