

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছে। প্রায় সাড়ে তিনশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, যা মোট বাতিল মনোনয়নপত্রের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাদের তিন চতুর্থাংশই বাছাইয়ে বাদ পড়েছে। এছাড়া বিএনপির ২৭, জামায়াতের ৯, ইসলামী আন্দোলনের ৪১ ও জাতীয় পার্টির ৫৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে সিপিবি, এনসিপিসহ অধিকাংশ দলের একাধিক প্রার্থীরও।
৩০০ আসনের বৈধ ও বাতিল মনোনয়নপত্রের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তথ্যে গড়মিলে বাদ পড়েছেন তারা।
মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী- ঋণখেলাপি, করখেলাপি, বিলখেলাপি, মামলার তথ্য গোপন, দ্বৈত নাগরিকত্ব, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, আয়কর বিবরণী সঠিকভাবে জমা না দেওয়াসহ নানা ধরনের জটিলতায় বিএনপির ২৭, জামায়াতের ৯, ইসলামী আন্দোলনের ৪১ ও জাতীয় পার্টির ৫৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া সিপিবি, এনসিপিসহ অধিকাংশ দলের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এখন দলটির ২৬৭ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। এ দলের ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ জনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় মাঠে রয়েছে ২২৭ জন।
দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে জাতীয় পার্টির। দলটির ২২৪ জনের মধ্যে ৫৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এখন মাঠে রয়েছেন ১৬৭ জন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে নিজ আসনে সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। সেই স্বাক্ষর এবং তথ্যের গরমিলের কারণেই বেশির ভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ৩ হাজার ৪০৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে জমা দেন ২ হাজার ৫৬৮ জন। সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেবার বাছাইয়ে বাদ পড়ে ৪২৩ জন। ১ শতাংশের স্বাক্ষরে গড়মিল, হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না দেওয়া, লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকা, মামলার তথ্য গোপন করার কারণে বাদ পড়েন তারা।
এবার মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধরা। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবে ইসি। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হবে। এরপর নির্ধারণ হবে চূড়ান্ত প্রার্থী। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।