

‘কয়দিন ঘরে বসে থাকবি, প্রশাসন কয়দিন পাহারা দেবে। ৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে তোকে মেরে ফেলব। তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি। তোকেও গুলি করে তোর শরীর ভিমরুলের বাসার মতো করে ফেলবো। একটা খুনের মামলা খাওয়া আর দশটা খুনের মামলা খাওয়া একই। তোকে মেরে আমি সারেন্ডার করবো।’
গত বছরের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের চালিতাতলীতে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী জনসংযোগে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত “সন্ত্রাসী” সরওয়ার হোসেন বাবলার ছোট ভাই আ. সন্ত্রাসী মোবারক আজিজ উদ্দিনকে এভাবেই মোবাইলে হত্যার হুমকি দিয়েছেন চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে ইমন।
গতকাল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) থেকে আজিজ উদ্দিনকে দেওয়া হত্যার হুমকি একটি অডিও ফেসবুকে ঘুরছে। হত্যার হুমকি পাওয়া আজিজ উদ্দিন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ জানায়, মোবারক চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড। দুর্ধর্ষ এই ‘সন্ত্রাসীর’ বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় একাধিক খুন, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির ঘটনায় মামলা আছে।
গত রবিবার তার হোয়াটসঅ্যাপে হুমকির এই অডিও পাঠানো হয় বলে আজিজ পুলিশকে জানিয়েছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের। অডিওর শুরুতেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অশ্লীলভাবে আজিজকে গালাগাল করতে শোনা যায়।
এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, ‘মোবারককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। বিদেশি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তিনি হুমকি দেওয়াসহ নানা অপরাধ করে আসছেন।’
আজিজ উদ্দিন সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে বলেন, ‘আমার ভাইকে গুলি করে মারার পর থেকে আমাকে প্রায়ই হুমকি দিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত রবিবার আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ হত্যার হুমকির পাওয়ার বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং নগর পুলিশের কমিশনারকে অবহিত করেছেন বলে জানান।
পুলিশ বলছে, সন্ত্রাসী মোবারক ফটিকছড়ির কাঞ্চনগরের মো. মুসার ছেলে। গেল বছর ৩০ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ সাত মামলার আসামি তিনি।, অস্ত্র পরিচালনায় বেশ পারদর্শী মোবারক। তার ১৫-২০টি অস্ত্র বহনের ছবি পুলিশের কাছে রয়েছে। জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনেছিলেন তিনিই।