

চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বুধবার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের সীমান্ত এলাকা ঝিকরগাছায় চেকপোস্ট বসিয়ে ধুমধুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম পুলিশের রিকুইজিশনে ও সহায়তায় আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি। গ্রেপ্তারের পর তাকে চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, ‘ডেভিড ইমন ও তার সহযোগী রায়হানকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় যশোর থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে নোয়াখালীতে পরিচালিত আরেক অভিযানে রায়হান অল্পের জন্য পালিয়ে গেলেও তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’
ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারসহ পুরো অভিযানের বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এসপি মাসুদ আলম।
এর আগে, চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত রবিবার রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।
মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।
পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন; এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তার ছিল বলে পুলিশের দাবি।