

বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি বাধার মুখে পড়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আজ বুধবার বিকেলে জেলার বাহুবল উপজেলার কামাইছড়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে এনসিপি নেতারা সেখানে অবস্থান করছেন।
এর আগে আজ বিকেল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।
ওই বহরে রয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলটির সিনিয়র নেতারা।
ওই বহরে থাকা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করতে যাওয়ার পথে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন জায়গায় আমাদের আটকে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে পুলিশ দিয়ে, তারপর রাস্তায় ট্রাক আটকে চাকা পাংচার করে এবং সর্বশেষ রাস্তার ওপর ট্রাক্টর রেখে আটকে দেওয়া হয়েছে।’
এ ছাড়া এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার ফেসবুকে জানান, তারা চতুর্থ ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের পথে রয়েছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। এনসিপির পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়। হামলায় দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হামলার সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলা থেকে বাঁচতে হবিগঞ্জ শহরের একটি সোনালী ব্যাংক শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে। রাতে তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন।
এদিকে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে আজ সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহর ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
আজ এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলার দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। মাঠে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। সেখানে ম্যাজিষ্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করছেন।