

আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অ্যাপারেলস লিমিটেড ফ্যাক্টরীর অপারেটর শাহিনা খাতুন হত্যা মামলায় প্রেমিক শরিফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা জজ মুনির হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে আসামি শরিফুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , জিরাবো এলাকায় শাহিনা ও শরিফুল গার্মেন্টসে চাকুরী করতো। সেই সুবাধে তাদের পরিচয়। বিবাহ বর্হিভূত অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে তারা ওই এলাকায় ভাড়া থাকতো। শরিফুলের বিবাহিত এবং দুি সন্তানের জনক। শাহিনা শরিফুলকে বিবাহের জন্য চাপ দিতে থাকে। শরিফুল প্রথম স্ত্রীর কাছে চলে যেতে চান।
বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। এর জেরে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তাদের দুই জনের মধ্যে ঝগড়া, কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শরিফুল শাহিনাকে গলায় হত্যা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মরদেহ প্ল্যাস্টিকের বস্তায় ভরে রুমে রেখে দরজা তালা দিয়ে চরে যায়। তিন দিন পর আশ পাশের লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে রুমের দরজা ভেঙ্গে শাহিনার মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় শাহিনার ভাই মো. রাহিন ২২ মার্চ আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পাঁচ মাস পর শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে শরিফুল আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর শরিফুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন আশুলিয়া থানার এসআই মো. ফজল আলী।
২০২২ সালের ৭ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।