

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় যাত্রীবাহি একটি বাস থামিয়ে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। যেখানে বাসটিতে থাকা বিকাশের ৩ জন সেলসম্যানের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। এসময় ডাকাতের গুলি এবং মারধরে ৩ জন আহত হন।
আজ রোববার বেলা পৌনে দুইটার দিকে টেকনাফ স্থলবন্দরের উত্তরের ১৪ নম্বর ব্রীজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এতে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম মো. আরমান (২৪), আহত অপর দুইজন সাকিব (২১) ও একরাম (২২)। তাদের সবার বাড়ি টেকনাফ পৌরসভা এলাকায়। তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা তিনজনই বিকাশের টেকনাফ এজেন্সের ৩ জন সেলসম্যান।
বাসটির চালক, আহত ব্যক্তি এবং কয়েকজন যাত্রীর দেওয়া তথ্য মতে, পালকি পরিবহনের একটি বাস টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ১৪ নম্বর ব্রীজ এলাকায় পৌঁছলে ডাকাতদল সড়কে পেরেক লাগানো গাছ রেখে অস্ত্রের মুখে বাসটির থামান। বাসে উঠেছে ডাকাতরা বিকাশ কোম্পানির তিনজনকে মারধর ও গুলি করে। এরপর তাদের কাছে রক্ষিত টাকা লুট করে বাস থেকে নেমে গুলি করতে করতে পশ্চিমের পাহাড়ে চলে যায়।
বাসে থাকা বিকাশের ওই তিন সেলসম্যান বাসযোগে হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে এজেন্টের কাছে টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা জানিয়েছেন, তারা টেকনাফের সীমান্ত ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের কাছে ৫৭ লাখ টাকা ছিল।
আহত বিকাশ কর্মী মো. আরমান বলেন, ‘ডাকাত দলের সঙ্গে বাসচালক বা সংশ্লিষ্ট কারও যোগসাজশ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত। কারণ আমরা নগদ টাকা বহন করছি এ তথ্য দুর্বৃত্তরা কীভাবে জানল, তা আমার বোধগম্য নয়। এছাড়া ডাকাতরা গুলি ছুড়তে শুরু করার পরও বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ না করে কেন থেমে ছিল, সেটিও রহস্যজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারগামী একটি বাস থামিয়ে বিকাশ কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে লুট হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ডাকাতির খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থল এসেছে। বাসটা জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের টিম রয়েছে। দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।