

আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আলমিরান্তে ব্রাউন নতুন একটি জার্সি উন্মোচন করেছে, যেখানে মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। রোববার কর্দোবার রেসিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবারের মতো এই জার্সি পরে মাঠে নামে দলটি।
ক্লাবটির দাবি, নতুন জার্সিটি মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি করা হয়েছে। জার্সির সামনের অংশে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনা দলের ফুটবলাররা যে একই বার্তাসংবলিত ব্যানার হাতে মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন, নতুন জার্সির লেখার ধরনও সেই নকশা অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচের শুরুর একাদশের ছবি প্রকাশ করে আলমিরান্তে ব্রাউন লিখেছে, ‘ওগুলো আর্জেন্টিনারই’।
ব্রিটেন থেকে প্রায় আট হাজার মাইল এবং আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় তিনশ মাইল দূরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নামে উল্লেখ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে এর মালিকানা দাবি করে আসছে।
ম্যাচের আগে আরেক বার্তায় ক্লাবটি জানায়, ‘চিরকাল আর্জেন্টিনার, মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই বিশেষ জার্সি আজ প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হবে।’
নতুন জার্সির নকশায় ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী হলুদ ও কালো ডোরাকাটা রঙের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে আকাশি ও সাদা অনুভূমিক রেখা, যা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সির রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জার্সির পেছনে খেলোয়াড়দের নম্বরের নিচে রয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি ছায়াচিত্র। সেখানে গোল উদ্যাপনের পরিচিত ভঙ্গিতে দুই হাতের তর্জনী আকাশের দিকে তুলে ধরতে দেখা যায় তাকে।
এদিকে বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর মধ্যে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফুটবলারদের হাতে দেখা যাওয়া একই বার্তাসংবলিত ব্যানারও রয়েছে।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফুটবলারদের ওই উদ্যাপনকে ‘সম্পূর্ণ বৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, ‘এই বার্তাটি সব আর্জেন্টিনাবাসীর অনুভূতির প্রতিফলন’। তবে এ ঘটনার জন্য দলকে আর্থিক জরিমানা করা হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
এর আগেও ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।