

যমুনা পশ্চিমপাড়ের সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেশনে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে নেয়ার পর ৬ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার পর থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ের বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া ট্রেনগুলো পর্যায়ক্রমে চলাচল শুরু করে।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ের শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেশনে এসে লাইনচ্যুত হয়। এ কারণে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ ৬ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট বন্ধ ছিল।
বিভিন্ন স্থানে নীলসাগর এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি এক্সপ্রেসসহ অন্তত ১০টি যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে। এসব ট্রেনের কয়েক হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ট্রেনযাত্রী আব্দুর রহমান জানান, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসার পর সিরাজগঞ্জের জামতৈল স্টেশন অতিক্রম করলে একটি বগির চাকা লাইনচ্যুত হয়। চালক বিষয়টি বুঝতে না পেরে ট্রেনটি চালিয়ে যেতে থাকেন। শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বগিটির একটি চাকা খুলে ছিটকে রেললাইনের পাশে চলে যায়। অপর চাকাটি ভেঙে লাইনের সঙ্গে আটকে যায়। এতে ট্রেনটি ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে যায়। এ সময় বগির যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের জিএম ফরিদ আহমেদ জানান, শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেশনে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগির দুটি চাকা সংযোগ থেকে আলাদা হয়ে যায়। একটি চাকা খুলে লাইনের বাইরে ছিটকে পড়ে। খবর পেয়ে পাবনার পাকশী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি বিকেল ৪টার দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার পর রেলপথ সচল হয়।
ফলে রেলপথের বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া ট্রেনগুলো পুনরায় নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছিল। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের (পাকশী) বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) রবিউল ইসলাম, (লোকো) শেখ আসিফ আহমেদ এবং পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (টেলিকম) আহমেদ ইশতিয়াক জহর তানিম।
বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ট্রেনের সময়সূচিতে বিপর্যয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়ে শহীদ এম. মনসুর আলী স্টেশনের সহকারী ইনচার্জ হাফিজুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অনেক যাত্রী টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিয়েছেন।