

ছুটির দিনে বগুড়া ও সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বগুড়ায় বাসচাপায় ছয়জন এবং সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন। দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪ জন। আজ শুক্রবার সকালে পৃথক পৃথকভাবে দুই জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে-
সিলেট
সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের ৭ জন যাত্রী নিহত হন। হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। নিহতদের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। হতাহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
বগুড়া
বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে বাসচাপায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মহাসড়কের পাশে কাজের সন্ধানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।