সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন : চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে অর্জনের পাল্লা ভারী

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার

রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রশাসনিক নানা জটিলতা আর বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও লক্ষ্য পূরণে দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে বর্তমান সরকার। ছয় মাস আগে আজকের এ দিনে এক ভঙ্গুর শাসন কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের মাধ্যমে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করে। সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন অর্থনীতি পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংকট নিয়ন্ত্রণ ছিল চ্যালেঞ্জের। তবে জনকল্যাণমূলক খাতের বিভিন্ন জটিল বাধা মোকাবিলা করে দৃশ্যমান নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারের সিংহভাগই পূরণ করা হয়েছে।

সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জন বা সাফল্যের অন্যতম হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর, প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া ও মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু। ফলে সরকারের কাজের পর্যালোচনায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও সার্বিকভাবে সাফল্যের পাল্লাটাই ভারী বলে মনে করেন সরকারসংশ্লিষ্টরা।

এক্ষেত্রে সবাইকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভীষ্ট লক্ষ্য অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক তথা নিরাপদ, মানবিক ও সাম্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। যেখানে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিতের পাশাপাশি জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণকে শক্তি করে সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের পথে এ যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

সরকারের মন্ত্রী ও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, আজ থেকে ছয় মাস আগে চলতি বছরের এ দিনে বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের সাক্ষী হয়। স্বতঃস্ফূর্ত জনরায় ও পাহাড়সম আস্থা নিয়ে গঠিত বিএনপি সরকার শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটায়নি, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের এক নতুন অভিযাত্রা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ন্যায়পরায়ণতা, নিখাদ জবাবদিহি, মানবিক মূল্যবোধ ও দূরদর্শী টেকসই উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এক নতুন বাংলাদেশের ভিত রচিত হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষার সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তারা বলছেন, এ ছয় মাস শুধু সময়ের হিসাব নয়; এটি প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মে এবং প্রত্যাশাকে অর্জনে রূপ দেওয়ার নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস। লক্ষ্য ছিল একটি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র, শক্তিশালী অর্থনীতি, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং এমন উন্নয়ন নিশ্চিত করা, যার সুফল পৌঁছে যাবে প্রত্যেক মানুষের দোরগোড়ায়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্র জানায়, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে আজ সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। এ ছাড়া কার্যক্রম নিয়ে একটি ই-বুক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পুস্তিকা প্রণয়ন করা হবে। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম এরই মধ্যে প্রায় শেষ হয়েছে।

পুস্তিকায় সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ, সংস্কার ও অর্জনের একটি তথ্যনির্ভর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যা শুধু অতীতের বিবরণ নয়; বরং ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি এবং পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার একটি প্রামাণ্য দলিল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের একটি ওয়েবসাইট আজ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এ ওয়েবসাইটে সরকারের ছয় মাস নিয়ে ই-বুকসহ অন্যান্য তথ্য উপস্থাপন করা হবে।

জানতে চাইলে সরকারের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ কালবেলাকে বলেন, আমরা পিআইডির উদ্যোগে একটি পুস্তিকা তৈরি করছি। যেখানে সরকারের ছয়মাসের উন্নয়ন-অগ্রগতি বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। সবমিলিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে বিএনপি এককভাবে ২১৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী; ৬৮টি। বাকি আসনগুলোতে বিভিন্ন জোট, দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এরপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভায় চমক হিসেবে রয়েছেন ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। যারা একেবারেই নতুন।

এ ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। এরপর কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে আবারও নতুনভাবে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তিনি নির্বাচিত হলে তাকে মন্ত্রণালয় ছাড়তে হবে। ফলে নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আবারও মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রী জানায়, বিএনপি সরকার গঠনের কিছুদিন পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কিছুটা চাপ পড়ে। তবে পরিস্থিতি সামলাতে সরকার দ্রুত গতিতে পদক্ষেপ নেয়। বিশেষ করে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়, কৃষির পুনরুজ্জীবনে খালখনন ও কৃষক কার্ড এবং নিম্নবিত্তের সামাজিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে, যা সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে শুভযাত্রা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, মাত্র ৬ মাস সময়কাল একটি দেশের আমূল পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সঠিক পথেই যাত্রা শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—আসন্ন দিনগুলোতে এ সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং জনগণ সুফল ভোগ করবে।

জানা যায়, বিএনপি সরকার গঠনের পরদিন সচিবালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-উপদেষ্টারা। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে কাজ শুরু করেন। সেই হিসেবে সরকারের প্রথম ছয় মাসে উল্লিখিত খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের অর্জনের পাল্লা ভারী সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, কিছু ক্ষেত্রে সংকট ও জটিলতা থাকলেও প্রথম ছয় মাসে বিএনপি সরকারের অর্জনের পাল্লা সবচেয়ে ভারী। নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০২৬-২০৩১ মেয়াদে প্রায় ১ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রস্তাব অনুযায়ী দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ৯৩ লাখ ২৭ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি গুদামে বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খাদ্যশস্যের মজুত রয়েছে, ২৪ লাখ টনের বেশি। তার মধ্যে চাল প্রায় ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৬ টন এবং গম প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৯ টন, ধান (চালে রূপান্তরযোগ্য) প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৫ টন। এ মজুত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, বাজার স্থিতিশীলতা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

জানা গেছে, জনকল্যাণ ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের সূচনা করেছে সরকার। কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, প্রবাসী, প্রবীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিশেষ কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ, ১৫ টাকা কেজি দরে খাদ্য সহায়তা, নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য সহজ ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া খাতে স্মার্ট ক্লাসরুম, নতুন পাঠ্যক্রম, বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকায় বৈদ্যুতিক বাস চালু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চট্টগ্রাম বন্দরে স্বয়ংক্রিয় কার্গো রিলিজ এবং নতুন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প শুরু হয়েছে। কৃষিপণ্যের সংরক্ষণে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

একদিকে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হয়েছে। চীন, মালয়েশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়া এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ফোরামে সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার লক্ষ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, আকাশসীমা নজরদারি, সন্ত্রাস দমন এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং সংগঠিত সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মানবিক ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বন্যা মোকাবিলা, কৃষক ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং তৃণমূল মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে জনমুখী নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অপচয় কমাতে মন্ত্রীদের বিশেষ সুবিধা সীমিতকরণ, ভিআইপি সংস্কৃতি কমানো এবং সরকারি ব্যয়ে সংযম প্রদর্শন করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি নির্মাণ হিসেবে ১৮০ দিনের উদ্যোগগুলো কেবল তাৎক্ষণিক সমস্যা মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি নির্মাণের একটি সুসংহত কর্মপরিকল্পনার সূচনা করেছে। এই সময়ের পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের লক্ষ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জীবনবান্ধব বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসা শুরু করার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে আনা, ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের ৫২টি কার্যদিবসে মোট ১০৫টি বিল পাস করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের একাধিক আলোচিত মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ প্রচেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সরকার রাষ্ট্রপরিচালনায় কৃচ্ছ্রতা সাধনের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে নেতাদের ছবি টানানোর প্রচলিত সংস্কৃতি বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ ভিআইপি চেয়ার, দীর্ঘ বিশেষণসহ পরিচয় ঘোষণা এবং ব্যক্তিবন্দনার নানা রীতিও বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং জ্বালানি, চালক ও বাসভবনের কর্মীদের ব্যয় নিজেই বহন করছেন। কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী প্রটোকল বাতিল করা হয়েছে।

সংসদীয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে ডিনার আয়োজন, আপ্যায়ন ব্যয়, বিদেশ সফরের প্রতিনিধিদল এবং অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় খাতে কাটছাঁট করা হয়েছে। দেশীয় পণ্য ব্যবহারে অগ্রাধিকার, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সরল জীবনযাপন এবং প্রশাসনে অপচয় রোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের জন্য শ্রমিক ঋণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা, কৃষিঋণ মওকুফ, ‘ওয়ান ট্যাব ওয়ান টিচার’, ‘কমলকুঁড়ি স্পোর্টস’, খুদে বৈজ্ঞানিক প্রকল্প এবং ‘নজরুলবর্ষ’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতির পরিবর্তে মিতব্যয়িতা, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন ধারা চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় তার মাসিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিচ্ছেন। তার মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী তিনি প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন।

আরও জানা যায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলা, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ কমানো এবং জননিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন, যা একটি অভূতপূর্ব সাফল্য। একই সঙ্গে হাদি হত্যার আসামি ও পুলিশের পলাতক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবি নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান জোরদার করেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তথা কূটনৈতিকভাবেও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করছে। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি ও শ্রমবাজারে বহুমুখীকরণের পাশাপাশি চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ প্রধান বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার করে চলেছে।

তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া সফর উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। সফরে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়।

২৪-২৬ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি চীন সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এ সফরে বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৌশলগত সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। সেইসঙ্গে মালয়েশিয়া চলতি আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের শ্রমবাজার ফের উন্মুক্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল গতকাল কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালনায় অনেক গুণগত পরিবর্তনের পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। একটি ছোট প্রশাসনিক নির্দেশই কখনো কখনো বড় রাজনৈতিক বার্তা হয়ে ওঠে। সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত সে ধরনেরই এক পদক্ষেপ, যা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণার পরিবর্তে রাষ্ট্রের কাজ ও জনস্বার্থকে সামনে আনার নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় সংকোচন, প্রটোকলের সরলীকরণ, ব্যক্তিবন্দনার অবসান এবং জনমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এক ভিন্নধর্মী চর্চার চিত্র উঠে এসেছে।

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি গতকাল রোববার কালবেলাকে বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটা সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। যার ক্ষমতার উৎস সত্যিকার অর্থেই জনগণ। যেহেতু জনগণই রাষ্ট্র ক্ষমতার উৎস, সেক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সর্বোচ্চ জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অবিরত চেষ্টা চলছে। গত ছয় মাসে অভূতপূর্ব মানবাধিকার আইনের অনুশাসন এবং বাকস্বাধীনতা যেখানে প্রত্যেক নাগরিক সর্বোচ্চ স্বাধীনতা উপভোগ করছেন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হয়ে উঠেছে সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে; যার সুবিধাভোগী হয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক। নারীর ক্ষমতায়ের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের ক্ষমতায়নের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম মুয়াজ্জিন-খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানি প্রদান, প্রবাসী কার্ড চালু করা, দেশজুড়ে কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ, শিক্ষাব্যবস্থার বিশাল সংস্কার, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রদান করা, সরকারের প্রথম বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টির বেশি পণ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশনায় ভ্যাট-ট্যাক্স কমানো হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় সম্পর্কে বাংলাদেশের স্বার্থ সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বল্প সময়ে সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ধরে ধরে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে যেভাবে কার্যকরী এবং দৃশ্যমান উন্নতি করেছে। একই সঙ্গে যেসব বহির্মুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলার চেষ্টা করেছে। দ্রব্যমূল্য যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। বিগত দুটি ঈদে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে প্রায় সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য বেতন বকেয়া এবং বোনাস পেয়েছেন। শ্রমিকবান্ধব শ্রম আইন করা হয়েছে। তরুণ-তরুণী যুবক-যুবতীরা যাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন, সেজন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা নিয়ে কাজ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও গ্রামীণ এবং প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর মাঝে বারবার ছুটে গেছেন। কোথাও খাল খননে নেমেছেন।

তিনি আরও বলেন, তবে বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে জ্বালানির চ্যালেঞ্জ স্বত্ত্বেও বাংলাদেশে তেলের দাম যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে ছিল। সর্বশেষ তেলের দাম বাড়ানো হলেও সেটি ছিল অনেক পরিমিত। প্রথমদিকে বিদ্যুৎ ও তেলের কোনো ঘাটতি ছিল না। ফলে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি ছিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। অতি সম্প্রতি একটি এফএসআরইউ নষ্ট হওয়ায় জ্বালানির একটা গভীর সংকট হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী এবং আমরা সবাই অত্যন্ত দুঃখিত। জনগণের ভোগান্তি লাঘব করা এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে কাজ চলছে। ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরের সৃষ্ট জ্বালানি সংকট থেকে বাস্তব সম্মত উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন কীভাবে পেট্রোনাসের মাধ্যমে গ্যাসের সাপ্লাই নিশ্চিত করা যায়। আমাদের নির্বাচিত সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যে আস্থা রয়েছে, তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ২৫টি শীর্ষ কোম্পানির ৫০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা এসেছেন। যেখানে তাদের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানির প্রতিনিধিরা ছিলেন। তারা বাংলাদেশে কীভাবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ করা যায়, সেটি নিয়ে কথা হয়েছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ খনিজ উত্তোলনের জন্য আলোচনা চলমান রয়েছে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এটা সত্যি। ঠিক একই সঙ্গে সেই চ্যালেঞ্জগুলো ধারণ করে সরকার জনগণের সঙ্গে থেকে উত্তরণের বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে, সেটাও সঠিক। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা যে জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা দেখছি, প্রতিটি রাজনৈতিক দল ভিন্ন মত পথের মানুষের যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে চাইছি, তাই হওয়া উচিত গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা। প্রথম সংসদীয় সেশনে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে শতাধিক অর্ডিন্যান্সকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে, যা অভূতপূর্ব। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। যেখানে রাষ্ট্র ও সরকারের চোখে প্রত্যেক মানুষের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে। বৈষম্যহীন মানবিক মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। তবে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চুক্তি সংশ্লিষ্ট দেশের সম্পর্ককে একটি ভিন্ন মাত্রায় রাষ্ট্রনায়কচিতভাবে নিয়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com