

সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী আজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। মন্দির ও পূজামণ্ডপে হবে পূজা, কীর্তন, গীতাযজ্ঞ, আরতি ও ধর্মীয় আলোচনা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন শ্রীকৃষ্ণ। তার জন্মতিথি স্মরণেই প্রতিবছর পালিত হয় জন্মাষ্টমী। ধর্মীয় বিশ্বাসে শ্রীকৃষ্ণ সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণের প্রতীক। অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে তার অবস্থান যুগের পর যুগ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন মন্দিরে আজ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন ও নামযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। মন্দির ছাড়াও ঘরে ঘরে ভক্তরা উপবাস থেকে জন্মাষ্টমীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করবেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে অবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছিলেন।
আজ বেলা ৩টায় ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ৩টায় পলাশীর মোড়ে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন হবে। এই মিছিল প্রতিবছরের মতো পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। রাতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তিন দিনের কর্মসূচি নিয়েছে। আজ ইসকনের স্বামীবাগ মন্দিরে সকাল আটটায় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে তাদের কর্মসূচি শুরু হবে। পরে ধারাবাহিকভাবে কীর্তন মেলা, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের রহস্য, আলোচনা সভা হবে। সন্ধ্যায় সন্ধ্যা আরতি ও শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত হবে। মহাভিষেক অনুষ্ঠিত হবে রাত ৯টায়।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনেও জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান শুরু হয় আজ সকালে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে। পরে ভজন ও প্রসাদ বিতরণ হবে। সন্ধ্যায় হবে শ্রীকৃষ্ণপূজা ও শ্রীশ্যামনাম সংকীর্তন। তারপর হবে শ্রীশ্রী মহামায়ার কাঠামো পূজা।