রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

শিক্ষকদের জন্যও হবে পৃথক পে-স্কেল

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার

বিচার বিভাগের মতো আগামীতে শিক্ষকদের জন্যও আলাদা পে-স্কেল প্রবর্তনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল হতে যাচ্ছে এবং শিক্ষকদের জন্য পৃথক পে-স্কেলের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পে-স্কেল ১১ বছর পরে হতে যাচ্ছে। এটা কিন্তু ইনফ্লেশনের (মূল্যস্ফীতি) সঙ্গে এডজাস্টমেন্ট (সমন্বয়) হয়নি। সেই জায়গা থেকে আমরা আগামী দিনে চিন্তা করছি, যেমনিভাবে বিচার বিভাগে আলাদা পে-স্কেল রয়েছে; তেমনিভাবে আমরাও (শিক্ষকদের জন্যও পৃথক পে-স্কেল করার) একটি চিন্তাভাবনা করছি।’

তবে অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। রাজনৈতিক সরকার হিসেবে বিষয়টি ধাপে ধাপে এগিয়ে নিতে হবে। সরকার এ দিকেই এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ১০০ শিক্ষককে এক লাখ টাকা করে এক কোটি টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করব। যারা ভালো কাজ করেছে তাদেরকে ভালো কাজের সম্মান দেওয়া। তাদেরকে পুরস্কৃত করা। তাদেরকে উৎসাহিত করা। এটি হচ্ছে আমাদের একটি দায়িত্ব।’

মন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের সময়ে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি, সহযোগিতা এবং তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে চায়। এটি প্রধানমন্ত্রীরও আকাঙ্ক্ষা বলেও জানান তিনি।

গুণী শিক্ষক নির্বাচন, সম্মাননার সংখ্যা বাড়ানো, অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ এবং এ খাতে বাজেটের বিষয়ে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

শিক্ষকদের জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান শক্তি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই জাতি গঠনের শেষ প্রাণ হচ্ছে আমাদের শিক্ষকগণ। ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে তাদেরকে স্মরণ করতে চাই এবং আগামী দিনের প্রত্যয় নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

শিক্ষকদের আচরণবিধি নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু শিক্ষকের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে কিংবা শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক হঠাৎ করেই একটি উক্তি করতে পারেন না, যেটা সমাজের বিভেদ সৃষ্টি করে। অথবা ছাত্রসমাজের কোনো ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেই কারণে আমরা সেই বিষয়গুলোকে লক্ষ্য করছি এবং সেই বিষয়ে নীতিমালা করে ব্যবস্থার দিকে এগোব।’

শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সমস্যার সমাধানেও সরকার কাজ করছে বলে জানান এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা ভোগান্তি পেয়েছে এবং আমরা তার উত্তরণের জন্যই কাজ করছি। ইতোমধ্যেই শিক্ষকদের অবসর ভাতা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের একটি যুগান্তকারী ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

মন্ত্রী জানান, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষকদের বকেয়া নিজস্ব কন্ট্রিবিউশনের অংশ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যে অংশ দেওয়ার রয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে পরিশোধের দিকেও এগোনো হচ্ছে। আগামী বাজেটগুলো পাওয়ার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের যে সমস্যাগুলো ছিল, সরকার সেগুলো চিহ্নিত করে একে একে সমাধানের চেষ্টা করছে। পৃথক পে-স্কেলের বিষয়টিও সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের নীতিমালা। তারা কী করেছে সেই বিষয়ে তো আর আমি উত্তর দিতে পারবো না। আমরা আমাদের নীতিমালা কীভাবে প্রণয়ন করব সেজন্যই আমরা ব্যাপকভাবে আমরা একটি বিশাল স্টিয়ারিং কমিটি করেছি। আমাদের যেন নৈতিক কোনো দুর্বলতা না থাকে সেই জন্যই আমরা এই আয়োজনটি করেছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com