

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন সাতজন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং স্বতন্ত্র তৈমূর আলম খন্দকারের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে- বলছেন স্থানীয়রা। মাঠেও এ দুই প্রার্থীকে সমানতালে প্রচারে দেখা যাচ্ছে। এ দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে নিয়ে সিটিতে চলছে এখন আলাপ-আলোচনা। আগামীতে কে হচ্ছেন এই সিটির মেয়র, তারই অপেক্ষায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ ভোটার।
নৌকার প্রার্থী ডা. আইভীকে জেতাতে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। তারা বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জে এসে সভাসমাবেশও করছেন। তাদের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কাজ করছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী তৈমূর আলমের প্রচার চলছে ভিন্ন কৌশলে। তার পাশে নেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। উপরন্তু একের পর এক দলীয় পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে তাকে। নির্বাচনী প্রচারে দেখা যাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ কোনো নেতাকেও। রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যেহেতু বিএনপি বলছে- এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে তারা কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। তাই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তৈমূর আলমকে সুযোগ করে দিয়েছেন তারা।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে সবচেয়ে বড় সমাবেশটি হয়েছিল ২৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের শেখ রাসেল পার্কে। বিজয় সমাবেশের ব্যানারে ওই সমাবেশটি হলেও অনেকেই বলছেন- এটি আইভীর নির্বাচনী সমাবেশ। বিশাল ওই জনসমাবেশে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। তবে ছিলেন না নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। এর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি সভা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ ছাড়া যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন সময় আইভীর নির্বাচন ঘিরে সমাবেশ করেছে। সর্বশেষ কর্মী-সমাবেশ হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে গত বুধবার।
এদিকে তৈমূরকে একের পর এক দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ৩ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সবশেষ গত বুধবার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফোরামের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাহবুব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কেন একের পর এক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, তা জানতে গতকাল তৈমূর আলমকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
গতকাল সিদ্ধিরগঞ্জ এবং বন্দরে প্রচার চালান আইভী ও তৈমূর। আইভী প্রচার চালান সিদ্ধিরগঞ্জের ১০নং ওয়ার্ডে এবং বন্দরের ২৫নং ওয়ার্ডে। অন্য তৈমূর সিদ্ধিরগঞ্জের ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডে প্রচার চালান। ডা. আইভী তার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য সুযোগ চান। পক্ষান্তরে তৈমূর আলম বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান।