

কিছু ভক্ত এমন থাকেন, যাদের প্রিয় তারকার বিপক্ষে কেউ কথা বললেই তারা চটে যান, জড়িয়ে পড়েন তর্কে। হাজারো মাইল দূরে থেকেও যেন তার প্রতি নিবেদন কমতি হতে দেবেননা সেই ভক্তরা। লিওনেল আন্দ্রেস মেসির ভক্তের তালিকায় এমন পাগলাটে ভক্তের অভাব নেই। আর সবশেষ কয়েক বছর ধরে তো মেসির এমন পাগলাটে ভক্ত ছিলেন তার সঙ্গেই, একই ড্রেসিংরুমে, উঁচিয়ে ধরেছেন বিশ্বকাপের শিরোপাটাও। সেই ভক্তের নামটা, হুলিয়ান আলভারেজ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো মেসির দিকে তাকিয়ে তখন জল ছলছল করছিল আকাশী-নীল জার্সির তরুণ স্ট্রাইকার আলভারেজের চোখও। শৈশবে যাকে দেওয়ালে টানানো পোস্টারে কিংবা হোটেলের লবিতে দূর থেকে দেখে শিহরিত হতেন, বছরের পর বছর ঘাম ঝরিয়ে সেই মানুষটিরই প্রিয় সতীর্থ হয়ে ওঠার অধ্যায়টা যেন শেষ হলো একরাশ দীর্ঘশ্বাসে।
মেসির এই বিদায়লগ্নে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজারো ভক্ত, সতীর্থদের মতো আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিজের অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন এই আতলেতিকো মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডও।
২০১১ সালের কোপা আমেরিকার সময় কর্দোবার এক হোটেলের লবিতে দাঁড়ানো একটি ছোট্ট শিশু, আর কাতার বিশ্বকাপে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর মেসির কাঁধে হাত রেখে উল্লাস করা এক বিশ্বজয়ী তারকা; এই দুই সময়ের দুটি ছবি এক সুতোয় গেঁথে ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন আলভারেজ।
শৈশবের সেই স্মৃতি রোমন্থন করে জাতীয় দলের কিট স্পন্সর ব্র্যান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলভারেজ বলেন, ‘২০১১ সালে আমার ভাইদের নিয়ে আমি কর্দোবার সেই হোটেলে যেতে পেরেছিলাম। তিনি ছিলেন আমাদের আদর্শ, আর আমরা হিসাব কষতাম আমার বয়স কত, কোন সালে কোন বিশ্বকাপ হবে… আর শেষ পর্যন্ত সবকিছু যেভাবে মিলে গেল, তা সত্যিই জাদুকরী ছিল।’
বন্ধু মহলে ছোটবেলায় মেসিকে নিয়ে তার করা তর্কের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে তার পক্ষ নিয়ে আমার বহু বিতর্ক হয়েছে। আমার কাছে তিনি সব সময়ই বিশ্বের সেরা, বহু বছর ধরে।’
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া নিজের বিদায়ী বার্তায় সেই ভক্ত থেকে সতীর্থ হয়ে ওঠার যাত্রার কথা তুলে ধরে আলভারেজ লেখেন, ‘প্রথমে আমি একজন শিশুর মতো আপনাকে ভালোবেসেছি, লক্ষ লক্ষ আর্জেন্টাইনদের মতো যারা আপনাকে দেখে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। এরপর আমি আপনার সতীর্থ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি এবং এমন কিছু মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি যা আমি কখনো ভুলব না।” দুই দশকের বর্ণিল ক্যারিয়ার শেষে জাতীয় দলের হয়ে মেসির রেখে যাওয়া অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের যা কিছু দিয়েছেন, যেভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে যে বিশাল উত্তরাধিকার আপনি রেখে গেছেন, তার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।’
বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের প্রীতি ম্যাচের পর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের ৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে মেসি যখন তার বিদায়ী ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন গ্যালারির অন্য সতীর্থদের সঙ্গে আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেজদের চোখও জলে ভেসে যায়। কেননা কোটির ভক্তের মতো এই বিশ্বকাপ জয়ী তারকারাও একসময় তাকে দেখেছিল বুনেছিল ফুটবলের স্বপ্ন।