

পাকিস্তানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সম্প্রতি তিনি দেশটির তিন বাহিনীর প্রথম প্রধান বা চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এই ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গাজায় ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আলোচনায় রয়েছেন তিনিও। কেননা, গাজায় সেনা পাঠাতে ইসলামাবাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ নিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কিছু দিনের মধ্যে আসিম মুনিরকে আবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। গত ছয় মাসের মধ্যে এটি হবে তাদের তৃতীয় বৈঠক। সূত্র বলছে, বৈঠকের মূল এজেন্ডা হবে গাজার স্থিতিশীলতা।
ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা পরিকল্পনায় মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে গাজা পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অনেক দেশই এই মিশনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক। কারণ গাজায় ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব নিতে হলে তারা সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। এতে নিজ নিজ দেশে ফিলিস্তিনপন্থি জনমতের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
সম্প্রতি আসিম মুনির ও ট্রাম্পের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। গত জুনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন মুনির। এটি পাকিস্তানের কোনো সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম একান্ত সাক্ষাৎ।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ না হলে আসিম মুনিরের ওপর ক্ষেপে যেতে পারেন ট্রাম্প। কিন্তু পাকিস্তান এটি চায় না। কারণ দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহায়তা পেতে ট্রাম্পের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পরমাণু শক্তিধর একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী অত্যন্ত অভিজ্ঞ। পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্রোহ দমন করেছে।
বর্তমানে তারা আফগানিস্তানভিত্তিক ইসলামপন্থি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান জারি রেখেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও লেখক আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সক্ষমতার বিষয়টি অনেকেই জানে।
ফলে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবেÑআসিম মুনিরের ওপর এমন চাপও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আসিম মুনির ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান, মিশর ও কাতারের সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। আয়েশা সিদ্দিকার মতে, এসব বৈঠক মূলত গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনী নিয়ে পরামর্শের অংশ।
যুদ্ধবিরতির কী হবে
ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার দুই মাসেরও বেশি সময় পরও, তিনটি নথিতে বর্ণিত বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিস্তারিত হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা ২০-দফা পরিকল্পনা।
গাজা সরকার জানিয়েছে যে, সম্মতির চেয়ে কম ত্রাণ ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে এবং ফিলিস্তিনিদের কাছে খুব কম ত্রাণ পৌঁছেছে। গাজা ও মিশরের মধ্যে রাফা সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ রয়েছে এবং ইসরায়েল বলেছে যে হামাস শেষ বন্দির মৃতদেহ ফেরত দিলেই এটি খোলা হবে।
একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গাজার অভ্যন্তরে নিরাপত্তা এবং শান্তি নিশ্চিত করার কথা, তবে এর গঠন, ভূমিকা ও ম্যান্ডেট অস্পষ্ট।
উপরন্তু, হামাসের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া একটি টেকনোক্র্যাট ফিলিস্তিন সংস্থা একটি অন্তর্বর্তীকালীন শাসন করার জন্য তৈরি, তবে এটি কখন ও কীভাবে গঠিত হবে, তার কোনো ইঙ্গিত নেই। ট্রাম্প পরিকল্পনার অধীনে, হামাসকে নিরস্ত্র করার কথা, কিন্তু দলটি এতে সম্মত হয়নি। বলেছে যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পরেই তারা কেবল অস্ত্র ত্যাগ করবে। ইসরায়েল বারবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যদি হামাসকে শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্র করা না হয়, তাহলে তারা তা করতে বাধ্য করার জন্য তাদের গণহত্যামূলক যুদ্ধ পুনরায় শুরু করবে।