শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটার, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে সারা দেশে যৌথ অভিযান শুরু হবে। গতকাল রোববার নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানরাও অংশ নেন। বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নের মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা জানান, এ পর্যন্ত ছয়জনকে আটক (গ্রেপ্তার) করা হয়েছে, যাদের সবাই কোনো না কোনোভাবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। মূল যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, সেই দুজনকে পালিয়ে যেতে একজন সহযোগিতা করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ তিনজনের ব্যাপারে অভিযান চলমান রয়েছে।

সিইসির সভাপতিত্বে বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানরা ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), এনএসআই, ডিজিএফআই, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার অংশ নেন। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, মেসেজ ক্লিয়ার—কাউকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করতে দেওয়া হবে না। যারা দস্যুতা করতে চায়, যারা আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়, যারা ভোটে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হবো না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা আবেগ ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে, তার প্রতিদান তারা পাবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে—এমন বিষয়কে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এখন থেকে মাঠপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালু হবে। তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটক শুরু করবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

যৌথ অভিযান প্রসঙ্গে ইসি বলেন, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো নির্দেশনা আজ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়েছি। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে—এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনে বাধা দিতে যা করার প্রয়োজন, তা তারা করবেন। আরেকটি বিষয় আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যেহেতু আলাদাভাবে আমাদের আরেকটা মিটিং আছে, আগামীকাল (সোমবার) হওয়ার কথা ছিল, সম্ভবত সেটা রিশিডিউল হয়ে পরশু (মঙ্গলবার) হবে। তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, শহীদ ওসমান হাদির ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটেছে, আগে থেকে যতটুকু জানা দরকার ছিল বা আমরা যা আশা করি, সেটা কেন পারা গেল না।

তিনি আরও বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, এখন থেকে মাঠপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর অপারেশন ফের চালু হবে। সেই যৌথ বাহিনীর অপারেশনের অন্যতম লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে, ভোটারদের মধ্যে, প্রার্থীদের মধ্যে, দলগুলোর মধ্যে একটা আস্থার পরিবেশ তৈরি করা।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকায় এলাকাভিত্তিক চেকপয়েন্ট এস্টাবলিশ করে চেকপয়েন্ট অপারেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। বিশেষ অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে বলা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের আনাগোনা আছে মর্মে জানা যায়, সেসব এলাকায়, রিমোট এলাকাগুলোতে অধিকতর নজরদারি-খবরদারি ইত্যাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে।

এই কমিশনার বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী হিসেবে যাদের বর্ণনা দিচ্ছেন বা ইনডিপেনডেন্ট প্রার্থী হিসেবে যারা ইলেকশন করতে চাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি যে, পুলিশ এরই মধ্যে একটা প্রটোকল দাঁড় করিয়েছে। সেই প্রটোকল অনুযায়ী যারা নিরাপত্তা চাচ্ছেন, সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর বাইরেও যদি কেউ নিরাপত্তা ঘাটতি অনুভব করেন, কোনো সংবেদনশীলতা অনুভব করেন, তারা পুলিশের কাছে অ্যাপ্রোচ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, বেশকিছু জায়গায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, পরোক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে কি না, খতিয়ে দেখা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com