

বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে এক ঘণ্টার জন্য প্রতীকী জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করল একাদশ শ্রেণির ছাত্রী বগুড়ার আফিয়া ইবনাত ও দশম শ্রেণির ছাত্রী কুড়িগ্রামের ইসরাত জাহান ইতি। আর এক ঘণ্টার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতীকী দায়িত্ব পালন করল পঞ্চগড়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া বিনতে আওলাদ। ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) গার্লস টেকওভার ক্যাম্পেইনের আওতায় গতকাল তারা এ দায়িত্ব পালন করেছে। বগুড়া ও কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক প্রতীকী জেলা প্রশাসককে ওই পদের কী কী দায়িত্ব সে সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন। এ সময় অফিসের বিভিন্ন রেজিস্টার কীভাবে সংরক্ষণ করতে হয়, কীভাবে একটি অফিসের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়, সেসব বিষয়ে পরামর্শ প্রদান
করেন। একইভাবে সাদিয়া বিনতে আওলাদকে দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা দেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হকের প্রতীকী দায়িত্ব পালন করে এনসিটিএফ বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক আফিয়া ইবনাত। সে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ছিল প্রতীকী জেলা প্রশাসক। এর আগে আফিয়া ইবনাত জেলা প্রশাসক জিয়াউল হকের কাছে অনুষ্ঠানটির অনুমতির জন্য এনসিটিএফ সভাপতি জুবাইর আহমাদ স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র প্রদান করে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ করে দেওয়া যায় তবেই একটি সমৃদ্ধ নগরী তথা দেশ গঠন করা যাবে। আজকের শিশুরাই একদিন সমাজের বিভিন্ন স্তরে কাজ করে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলে বড় বড় কর্মে নিজেকে শামিল করবে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোরী, কন্যাশিশু অথবা যুব নারীদের নেতৃত্ব প্রদানকারীর ভূমিকা পালন করতে আত্মবিশ্বাসী এবং উৎসাহিত করবে।
এনসিটিএফ বগুড়া জেলা ভলেন্টিয়ার সঞ্জু রায় এবং পারমিতা ভট্টাচার্য স্বর্ণার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (গোপনীয়) আশরাফুর রহমান, এনসিটিএফ বগুড়ার উপদেষ্টা এবং দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য্য শংকর, এনসিটিএফ বগুড়ার সভাপতি জুবাইর আহমাদ, সহসভাপতি যারিন সুবাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিউল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিক হাসান অভি, শিশু গবেষক যথাক্রমে মালিহা ইসলাম ও প্রিতম হাসান, শিশু সাংবাদিক যথাক্রমে সানজিদা আজমির ও আবদুল্লাহ আল সিহান, চাইল্ড পার্লামেন্ট সদস্য যথাক্রমে তাবাচ্ছুম নাহার দিয়া এবং মাহমুদ আল জিহাদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম তার পাশের আসনে বসিয়ে প্রতীকী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান ইতিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসরাত জাহান ইতি কুড়িগ্রাম জেলাকে বাল্যবিয়েমুক্ত ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশমালা তুলে ধরে। সেসব সুপারিশ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
পরে এনসিটিএফ সভাপতি খ.ম জাকিউল ইসলাম রুদ্রের সভাপতিত্বে ও ইয়েস বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি কেএম রেজওয়ানুল হক নুরনবীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু, উপজেলা সমাজসেবা প্রবেশন অফিসার শরীফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার, কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক গোলেনুর বেগম, নারায়ণ চন্দ্র, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধি জুলফিকার আলী হানিফ, সাংবাদিক মাহফুজার রহমান খন্দকার প্রমুখ।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতীকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া বিনতে আওলাদ উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভাকে নারীবান্ধব করতে ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সুপারিশমালা তুলে ধরে। গতকাল বেলা ৩টার দিকে সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেনের কাছ থেকে প্রতীকী দায়িত্ব বুঝে নেয়। একই সঙ্গে ১ ঘণ্টার জন্য তার অধীন হয় পুরো সদর উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সেই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যসম্পাদনসহ তদারকিও করে ওই ছাত্রী।
সাদিয়া বিনতে আওলাদ পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং সে চাইল্ড পার্লামেন্ট পঞ্চগড় জেলা শাখার সদস্য। কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বেসরকারি সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) উদ্যোগ এ কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রতীকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া বিনতে আওলাদ বলে, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে এবং নারীবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব এবং নারীর উন্নয়নে কাজ করব।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, ‘নারীর অবদান এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। আজকের তরুণ প্রজন্ম ও নারীরাই একদিন দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। আমরা নারীবান্ধব উপজেলা ও নারীর সংহিংসতা রোধে কাজ করব এবং স্কুলছাত্রীর সব সুপারিশ আমরা বাস্তববায়ন করার চেষ্টা করব।