রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

নথি চুরির আগে অকেজো করা হয় সিসি ক্যামেরা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৫২ বার

কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে থাকা সচিবালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ’ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি নথি চুরি হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়নি ঘটনার ছায়া তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অন্যদিকে ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ’ বিভাগের যে ৬ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে, তাদের গ্রেপ্তার বা ছেড়ে দেওয়ার কথাও নিশ্চিত করেনি। তবে সিআইডি তদন্তকালে ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে উল্লেখ করার মতো তথ্য পেয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনার ব্যাপারে কোনো মামলাও হয়নি। এ পর্যন্ত ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ’ বিভাগের ১২ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ’ বিভাগের যে কক্ষের ফাইল কেবিনেট থেকে নথিগুলো চুরি হয়েছে; সে কক্ষের সামনের সিসি ক্যামেরা গত দুই মাস ধরে নষ্ট। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কক্ষ থেকে কে বা কারা ফাইল চুরি করেছে সেটির ফুটেজ পাচ্ছেন না সিআইডির তদন্তকারীরা। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পারিপাশির্^ক অন্যান্য ঘটনাপ্রবাহের প্রাথমিক বিশ্লেষণ করে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, নথি চুরির সঙ্গে সিসি ক্যামেরা নষ্ট অথবা বন্ধ করার নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। কারণ সব জায়গার সিসি ক্যামেরা সচল এবং ফুটেজ পাওয়া গেলেও ওই কক্ষের সামনে থাকা ক্যামেরার কোনো ফুটেজ পায়নি। ওই কক্ষের সামনের সিসি ক্যামেরা কাজ না করার বিষয়টি ইতোমধ্যে রহস্যের সৃষ্টি করেছে।

সিআইডি কর্মকর্তারা আরও ধারণা করছেন, একদিন-দুদিন নয়; দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নথি চুরির আগে চোর চক্র সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ নেয়। আর এ কাজ করতে গিয়ে তারা প্রথমেই সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ নেয়। তার পর ধাপে ধাপে নথি চুরির দিকে হাত বাড়ায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিসি ক্যামেরা বন্ধ বা নষ্ট করে দেয়।

চুরি হওয়া নথিগুলো স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের ক্রয় ও সংগ্রহ শাখা ২-এর সাট-মুদ্রাক্ষরিক ও কম্পিউটার অপারেটর মো. জোসেফ সরদার ও আয়েশা সিদ্দিকার কক্ষে ছিল। ওই কক্ষের সামনের সিসি ক্যামেরা দুটিই গত দুই মাস ধরে কাজ করছে না। জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে এমনটিই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

সূত্র জানায়, সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চেষ্টা করছে সিআইডি। সংশ্লিষ্ট শাখার সিসি ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত কর্মীদেরও সিআইডিতে তলব করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, তদন্তে কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না। তবে চুরি হওয়া নথিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালের কেনাকাটা সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিপত্র ছিল। এ কারণে সন্দেহের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ নথিপত্রে তাদের কেনাকাটার অনিয়মের চিত্র থাকতে পারে। আর এ কাজে মন্ত্রণালয় অথবা স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের কেউ সহায়তা দিয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত হতেও কাজ করছে সিআইডি। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সোমবারও দিনভর সিআইডি কার্যালয়ে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত সিআইডির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তদন্তে সম্পৃক্ততা প্রমাণের পরই মামলা করতে চায় সিআইডি। মামলার পরই সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ’ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। তারা ঘটনার ছায়া অনুসন্ধান করছে। চুরি হওয়া নথিগুলো গত এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময় সেখানে জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা গেছে, চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ৬ কর্মচারীকে গতকাল সোমবারও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদকালে ফাইল কেবিনেটের চাবি কীভাবে হাতছাড়া হয়, নতুন কোনো নকল চাবি তৈরি করা হয়েছে কিনা, এ ঘটনার পেছনে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া কারা এই চুরির সঙ্গে জড়িত এবং তাদের ইন্ধনদাতা কারা, সেসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিআইডির ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি গায়েবের ঘটনা খুবই স্পর্শকাতর। এ ঘটনার বিষয়ে ওই বিভাগের ৬ জন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি নথি চুরির ঘটনায় বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (প্রকল্প বাস্তবায়ন-১ শাখা, অতিরিক্ত দায়িত্ব ক্রয় ও সংগ্রহ-২) নাদিরা হায়দার। সরকারের ‘এ’ ক্যাটাগরির কেপিআইভুক্ত (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) যেসব প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা রয়েছে, সচিবালয় সেগুলোর একটি। সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে থাকা এই সচিবালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সিআইডিকে অনুরোধ জানায় স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর। এর পরই সিআইডি মাঠে নামে। এ ছাড়া শাহবাগ থানাপুলিশ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের নিজস্ব তদন্ত কমিটি নথি চুরির ঘটনা তদন্ত করছে।

নথি চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সিআইডির মেট্রো শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। এই তদন্তের সঙ্গে সংস্থাটির ফরেনসিক, এলআইসি, আইন, গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা যুক্ত আছেন। সিআইডির একটি টিম নথি চুরির ঘটনার তদন্তে রবিবার স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ঘটনাস্থল পরির্দশন করে আলামত সংগ্রহ করেন। এ সময় সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা ১৩ জনের আঙুলের ছাপ নেন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেন। পরে তদন্ত টিম স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ক্রয় শাখার কর্মচারী জোসেফ, আয়শা, বাদল, বারী, মিন্টু ও ফয়সালসহ এ পর্যন্ত ১২ কর্মীকে সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com