দেশের সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার আহŸানের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো জ্যাকসন হাইটস ঈদ মেলা। গত ২৫ জুন রোববার সিটির রুজভেল্ট এভিনিউ ও ৭৭ স্ট্রিটে বিনোদন মাল্টিমিডিয়া সার্ভিসের
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের কমিটির কাছে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া বিচারিক আদালতের আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের ট্যাক্স

জরুরি সাহায্যের কল পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে সাহায্যপ্রার্থী পরলোকে পাড়ি দিয়ে ফেলেছেন। এত কষ্ট করে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি, কিছু তো করতেই হবে। আর তাই তিনি মৃত ব্যক্তিটির দুটি ক্রেডিট কার্ড চুরি করে নিয়ে গেলেন। কার্ড চুরি করেই ক্ষান্ত হননি, সেগুলো যত তাড়াতাড়ি ব্যবহারে যত বেশি পণ্য কেনা যায়, সেই চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। কাজটি করেছেন ব্রঙ্কসের ফায়ার সার্ভিসকর্মী সাইলাস ম্যাকেঞ্জি। তবে তিনি ধরা পড়েছেন। এখন বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন। ঘটনাটি অবশ্য একেবারে সাম্প্রতিক সময়ের নয়। ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি রাতে ঘটেছিল। ৩৩ বছরের ম্যাকেঞ্জি ৯১১-এর ফোন পেয়ে ম্যানহাটানের টার্টল বে অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। তিনি চার বছর ধরে নিউইয়র্ক সিটির দমকল বাহিনীতে চাকরি করেছিলেন। ব্রঙ্কস ডিস্টিক্ট অ্যাটর্নি ড্যারসেল ক্লার্কের তথ্যানুযায়ী, ম্যাকেঞ্জি যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন, ততক্ষণে সাহায্য প্রার্থনাকারী ব্যক্তিটি মারা গিয়েছিলেন। ম্যাকেঞ্জি সেখানে পৌঁছার আগেই আরো কয়েকজন সাহায্যকারী ছুটে গিয়েছিলেন। মৃত ঘোষণার পর তারা তখন বাড়িটি সিলগালা করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এই ফাঁকে মৃত ব্যক্তির আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড ও মাস্টারকার্ড নিয়ে কেটে পড়েন ম্যাকেঞ্জি। পরে উদ্ধারকর্মীরা বুঝতে পারেন যে, লোকটির ক্রেডিট কার্ডগুলো চুরি হয়েছে। ম্যাকেঞ্জি ক্রেডিট কার্ডগুলো ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার ডলারের বিভিন্ন সামগ্রী কিনেছিলেন। ক্রেডিট কার্ডগুলো ব্যবহার করতে তিনি বেশি সময় নেননি। পরের দিন সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যেই তিনি বিভিন্ন দোকানে ছুটে যান কেনাকাটা করার জন্য। তিনি যেসব স্থানে গেছেন তার মধ্যে রয়েছে সুনোকো গ্যাস স্টেশন, ফুড বাজার সুপারমার্কেট ও টার্গেট। টার্গেট থেকে তিনি এয়ারপডও কেনার চেষ্টা করেছিলেন।

ভবন ক্রয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতায় জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সহ সভাপতি শাহীন কামালী ও সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম আহুত এসোসিয়েশনের পাল্টা জরুরি সাধারণ সভায় সভাপতি বদরুল হোসেন খান ও সহ সাধারণ সম্পাদক রুকন হাকিমকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শাহীন কামালীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মইনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে আয়োজিত সভায় বক্তারা ক্রয়কৃত ‘জালালাবাদ ভবন’ রক্ষার পাশাপাশি উদ্ভুত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব করেন। উল্লেখ্য, গত ১১ জুন রোববার সভাপতি বদরুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় ইতিপূর্বে ইসি কমিটিতে বহিষ্কার করা সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শাহীন-মইনুলের নেতৃত্বে জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি শাহীন কামালী এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মওলানা ছয়ফুল আলম সিদ্দিকী। এরপর এসোসিয়েনের যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভামঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন এসোসিয়েশনের সাবেক ট্রাষ্টি আব্দুল হাসিব, সাবেক সভাপতি সৈয়দ শওকত আলী, এম এ কাইয়ুম ও ওয়াহিদুর রহমান মুক্তা, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আজিজুর রহমান সাবু ও এমাদ চৌধুরী, এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী শেফাজ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলিম উদ্দিন আহমদ, ডা. জুন্নন চৌধুরী ও কাতার জালালাবাদ সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। শুরুতে জরুরি সাধারণ সভা আহ্বানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সভার সভাপতি শহীন কামালী। এরপর সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন মইনুল ইসলাম। তিনি তার রিপোর্টে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পরবর্তীতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা শাহাবুদ্দীন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, পংকি মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন কামরান, ইনিঞ্জনিয়ার সৈয়দ ফজলুর রহমান, সৈয়দ জুবায়ের আলী, শাহীন আজমল, মামুন আহমেদ, আতাউল গণি আসাদ, এবাদ চৌধুরী, দরুদ মিয়া রনেল, হুমায়ুন চৌধুরী, মোহাম্মদ মহসিন সেলিম, এম আলাউদ্দিন, মোশাহেদ চৌধুরী, এম করীম চৌধুরী, মিজানুর রহমান প্রমুখ। সভায় বক্তারা ১১ জুনের সাধারণ সভা ও সভাপতি বদরুল হোসেন খানের কর্মকা-ের সমালোচনা করে বলেন, ওই সভায় সিকিউরিটি দিয়ে যেভাবে জালালাবাদবাসীকে নাজেহাল করা হয়েছে তার অত্যন্ত দু:খজনক, নিন্দনীয় এবং সভাপতি বদরুল হোসেন খান সাংগঠনিক নিয়ম-কানুন ও গঠনতন্ত্র লংঘন করেছেন। বক্তারা বলেন, ‘জালালাবাদ ভবন’ সময়ের একমাত্র দাবী। এজন্য সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। বক্তারা ক্রয়কৃত ভবন রক্ষার ব্যাপারে এক্যমত পোষন করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভুত সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। সভার শেষে শাহীন কামালী নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করা, বিভিন্ন অনিয়ম ও গঠনতন্ত্র লংঘনের অভিযোগ সহ ৮ দফা অভিযোগে সভাপতি বদরুল হোসেন খান ও সহ সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক) রুকন হাকিমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব করলে সভায় উপস্থিত সকলে হাত তুলে তা সমর্থন করেন। এই সিদ্ধান্ত ২৫ জুন থেকে কার্যকর হবে। এরপর মইনুল ইসলামের প্রস্তাবে শাহীন কামালীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব করলে এই সিদ্ধান্তও উপস্থিত সকলে হাত তুলে তা সমর্থন করেন। সভায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী জালালাবাদবাসী উপস্থিত ছিলেন। জালালাবাদ ভবন ঘিরে কার্যকরী পরিষদের পক্ষে বিপক্ষেও বেসামাল লজ্জাজনক পরিস্থিতির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে কমিউনিটিতে। সিলেটবাসীর কয়েকটি সামাজিক আঞ্চলিক সংগঠনের নেতা-কর্মী পাশাপাশি সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা চলমান সংকট উত্তরণে এগিয়ে আসলেও বদরুল হুসেন খানের একগুঁয়ে আচরণে সম্ভব হয়নি এমনকি তিনি আলোচনার স্থানে উপস্থিত হওয়ার সম্মতি জানালেও উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। গঠনতন্ত্র উপেক্ষা কিংবা তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামকে বহিষ্কার করে সহসাধারণ সম্পাদক রুকন হাকিমকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দায়িত্ব দিয়ে দীর্ঘ দশ মাস পর গেলো ১১ জুন সভাপতি বদরুল হুসেন খান ও সহ সাধারণ সম্পাদক রুকন হাকিম অবৈধ সাধারণ সভার আয়োজন করেন। কাঙ্কিত ভবন রক্ষার পাশাপাশি চলমান কঠিন সংকট উত্তরণে সহযোগিতায় দলমত নির্বিশেষে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অংগরাজ্য থেকে সিলেট বিভাগের প্রতিটি অঞ্চলের সচেতন মহলের একাধিক কীর্তিমান মননশীল সৃজনশীল ব্যক্তি উপস্থিত হয়েছিলেন কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় জালালাবাদবাসীকে বন্দুক সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে হলের ভিতর থেকে বের দেয়ার ঘৃণিত নেক্কারজনককা-ে উপস্থিত সুধীমহলে সাধারণ সভা আয়োজকদের প্রতি মারাত্মক ক্ষোভের উদ্রেক হয়। জালালাবাদবাসী সেদিন হলের বাহিরে অবস্থান নিয়ে মইনুল ইসলাম ও ভবনের পক্ষে বিভিন্ন সেøাগান দিতে দেখা যায় একপর্যায়ে জালালাবাদবাসী রাগে ক্ষোভে অপমানে লজ্জায় ভবন মিলনায়তনে সেদিন রাতেই উন্মুক্ত আলোচনা করে সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামকে অনতিবিলম্বে জরুরি সাধারণ সভা আহবান করার চূড়ান্ত পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাধারণ সম্পাদক ১৮ জুন নিউইয়র্ক একই হলে উডসাইড কুইন্স প্যালেস জরুর সাধারণ সভার আয়োজন করেন। সহ সভাপতি শাহীন কামালীর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রাচীন বৃহত্তর সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারণ সভায় সিলেট বিভাগের প্রত্যেক উপত্যকা থেকে জালালাবাদবাসীর উপস্থিতি ছিলো স্মরণ রাখার মতো। সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সাধারণ সভায় উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতার সহিত ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সারমর্ম ব্যাখ্যা করে বক্তব্য প্রদানকালে মূর্হঃমূহ করতালির মাধ্যমে তাঁকে সমর্থন জানান সাধারণ সভায় আগত উপস্থিত জালালাবাদবাসী। সাবেক কর্মকর্তা মৌলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকির কোরান তেলোয়ত ও সাবেক ছাত্রনেতা বিশিষ্ট সংগঠক সাহাব উদ্দিনের স্বাগতিক জোড়ালো বক্তব্য উপস্থাপন প্রাক্কালে মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জড়িত সংগঠনের সরকারিভাবে রেজিষ্ট্রেশনের তিনজনের মধ্যে একজন ওহিদুর রহমান মুক্তা, সংগঠনের অন্যতম প্রাণ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান, সাবেক সভাপতি গঠনতন্ত্র প্রণেতা এম এ কাইয়ুম, সাবেক সভাপতি সৈয়দ শওকত আলী, মধ্যেপ্রাচ্যের কাতার জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট সংগঠক সাবেক কর্মকর্তা আজিজুর রহমান সাবু, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ডাঃ জুন্নুন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলিম উদ্দিন আহমেদ, সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল হাসিম হাসনু তাছাড়া চলমান ক্রান্তিলগ্নের সংকট উত্তরণে অব্যাহত প্রচেষ্টায় বিশিষ্ট লেখক কলামিস্ট সুব্রত বিশ্বাস, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফকু চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা অকৃতিম সংগঠক শাহাব উদ্দিন, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, আব্দুল মালিক খান লায়েক, দরুদ মিয়া রনেল, মামুনুর রশিদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ পংকি মিয়া, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আতাউল গনি আসাদ, সাবেক কর্মকর্তা মখন মিয়া, মনির আহমদসহ অনেকের নাম বিশেষ অতিথির মর্যাদায় ঘোষণা করেন।

নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট বোর্ড বার্ষিক ভাড়া ৫ থেকে ৭ ভাগ বাড়ানোর বিষয়টি অনুমোদন করতে যাচেছ। কয়েক সপ্তাহ ধরে গণশুনানি শেষে বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তাতে ভাড়াটে ও বাড়ির মালিক- উভয়পক্ষকেই ক্ষুব্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরায় প্রায় ১০ লাখ রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ইউনিটে ৩০ লাখ লোক বসবাস করে। ভাড়া বাড়ানোর শঙ্কা তাদের মধ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আসন্ন ভোটাভুটির সময় ক্ষোভ প্রকাশ হতে পারে প্রকটভাবে। গত মে মাসে মেয়র এরিক অ্যাডামসের নিয়োগ করা ৯ সদস্যের প্যানেল ভাড়া বাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছিল যে ১ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরের চুক্তিতে ভাড়া ২ থেকে ৫ ভাগ এবং দুই বছরের চুক্তিতে ভাড়া ৪ থেকে ৭ ভাগ ভাড়া বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, দুই হাজার ডলারের ভাড়া বাড়ির জন্য ৫ ভাগ বৃদ্ধি মানে মাসে অতিরিক্ত ১০০ ডলার খরচ বাড়া। ফলে এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ভাড়াটে প্রতিনিধিরা। তারা ভাড়া বাড়া স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছিলেন। অন্যদিকে বাড়ির মালিকরা ১৪ ভাগ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার কথা জোরালভাবে বলেছিলেন। নগরীর পাঁচ বরোর প্রতিটিতে গণশুনানির সময় গোলযোগের সৃষ্টি হয়। গত সপ্তাহে ডাউনটাউন ব্রুকলিনে ভোটাভুটিতে যেকোনো ধরনের ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় অডিটোরিয়ামটি লোকারন্য হয়ে পড়ে। লিগ্যাল এইড সোসাইটির শীর্ষ আইনজীবী অ্যাডরিন হোল্ডার বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটির এই সঙ্কটকালে যেকোনো ধরনের ভাড়া বাড়ানো বন্ধ করা উচিত।
সরবরাহ করা খাবারের সাথে অনাকাক্সিক্ষত চামচ ও চপস্টিক দিলে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁকে বড় অঙ্কের অর্থ জরিমানা করবে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। নগর কর্তৃপক্ষের সুপারিশ করা বিধানে বলা হয়েছে, গ্রাহক না চাইলেও রেস্তোরাঁ থেকে সরবরাহ করা খাবারের সাথে যদি প্লাস্টিকে চামচ, চপস্টিক, এবং সয়া সস, কেচাপ প্যাকেট ইত্যাদি দেওয়া হয়, তবে তাদেরকে ৫০ ডলার থেকে ২৫০ ডলার জরিমানা করা হবে। গত ফেব্রুয়ারিতে ‘স্কিপ দি স্টাফ’ নামের বিলটি সই করা হয়েছিল। এখন তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রেস্তোরাঁগুলো থেকে প্লাস্টিকের বর্জ্য কমানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অবশ্য রেস্তোরাঁগুলো নিজেদের শুধরে নিতে সময় পাবে। ১ জুলাই পর্যন্ত তাদের কেবল হুঁশিয়ারিই দেওয়া হবে। এরপর থেকে জরিমানা কার্যকর হবে। আর পুরো ব্যবস্থায় খুশি এনওয়াইসি হসপিটালিটি অ্যালায়েন্স। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু রিগি বলেন, ‘শুরুতে সতর্ক করে দেওয়া এবং পরে জরিমানা করার বিষয়টি খুবই ভালো উদ্যোগ।’

গত তিন বছরে নিউইয়র্ক রাজ্যে কারাবন্দির সংখ্যা দ্রুত হারে কমছে। নিউজার্সি, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও ওয়াশিংটন বাদ দিলে নিউইয়র্কেই সবচেয়ে দ্রুত কমছে কারাবন্দি লোকের সংখ্যা। এম্পায়ার স্টেট কারাগার এবং স্থানীয় জেলখানাগুলোর মোট বাসিন্দা ২০১৯ সালে যেখানে ছিল ৬৪,৩০৬ জন, ২০২২ সালে তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৭,০০৩ জনে। তিন বছরে কারাবন্দি কমেছে ২৬.৯ ভাগ। ভেরা ইনস্টিটিউট ফর জাস্টিজ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্কের কারাবন্দি নিয়ে জ্যাকব ক্যাংক-ব্রাউনের ৩০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শ্রমিকের চাহিদা বাড়ায় সম্ভবত কারাবন্দির সংখ্যা কমে আসতে সহায়তা করছে।’ এতে বলা হয়, ‘যথাযথ সহায়তার মাধ্যমে কারাবন্দির সংখ্যা কমা কর্মী স্বল্পতা দূরে সহায়তা করতে পারে, বৈষম্য কমাতে সাহায্য করতে পারে।’ তবে নিউইয়র্কে কারাবন্দির সংখ্যা কমার সঠিক কারণটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তবে জামিন আইনে সংস্কারের পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারি এবং বেকারত্ব কমায় এতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটর সম্প্রতি ‘ক্লিন স্টেট’ বিল অনুমোদন করেছে। এই আইনটি পাস হলে কারাদ- ভোগকারী ব্যক্তিদের অপরাধ রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে গোপন থাকবে। তবে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই বিলে সই করবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে এই বিলের বিরুদ্ধে স্টেট সিনেটর জর্জ বরেলো মন্তব্য করেছেন যে ‘আমার ডেমোক্র্যাট সহকর্মীরা অপরাধ কমানোর দিকে নজর দিচ্ছেন না। তারা কেবল কারাগার থেকে অপরাধীদের মুক্তি দিতে চাচ্ছেন। আর এর ফলে অপরাধ বাড়তে দেখছি।’ অন্যদিকে অ্যাসেম্বলি মাইনরিটি নেতা উইলিয়াম বার্কলে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘কারাগারের জনসংখ্যা হয়তো কমছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অপরাধের সংখ্যা কিন্তু কমছে না।’ উত্তর-পূর্বের আরো কয়েকটি নীল রাজ্যে কারাবন্দির সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ও কানিকটিকাট। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এই দুই জায়গায় কারাবন্দি কমেছে যথাক্রমে ২৪.৩ ও ২১.৩ ভাগ করে।

আগামী ২৮ জুনু বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহাকে ঘিরে পশু কোরবানির জন্য প্রবাসীদের ভরসা বাংলাদেশি গ্রোসারি ও সুপার মার্কেটগুলো। এক-দেড়মাস আগে থেকে শুরু হয় গ্রোসারিগুলোতে কোরবানির পশুর অর্ডার নেওয়া। অনেকে গ্রোসারি ছাড়াও সরাসরি স্লটার হাউজে যান কোরবানির পশু জবাই করতে। জ্যামাইকার মান্নান গ্রোসারি, ফাতেমা গ্রোসারি, কাওরান বাজার, বিসমিল্লাহ, সাটফিন বুলেভার্ডের একাধিক গ্রোসারি; জ্যাকসন হাইটসের মান্নান গ্রোসারি, খামার বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন গ্রোসারিতে কোরবানির অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। দাম স্থির না করেই কোরবানির অর্ডার নেওয়া হচ্ছে এসব গ্রোসারিতে। তবে এবার গরুর মাংসের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ গত সপ্তাহে এর দাম ৪০ সেন্ট করে বেড়েছে। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে জ্যাকসন হাইটস এর ৩৭ এভিনিউ, ৭৩ স্ট্রিটের ফুটপাতের ওপর প্রতিদিনই বসছে দোকান। ঈদের কেনাকাটা সামনে রেখে প্রতি সপ্তাহান্তেই বাঙালিরা উপচে পরেন তাদের প্রিয় জ্যাকসন হাইটস-এ। নিউইয়র্কের আশেপাশের শহরগুলো থেকেতো বটেই, অনেক দূর দূরান্ত থেকেও বাঙালিরা চলে আসেন তাদের এক চিলতে বাংলাদেশ অর্থাৎ জ্যাকসন হাইটসে ঈদ-শপিং করতে।

যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে ২৮ জুন। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদ পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে ঈদের নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। যেসব স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, সেসব স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ঈদের দিন মুসলমানরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিভিন্ন ঈদের জামাতে নিউইয়র্কের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। জ্যামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, কুইন্স ভিলেজ, হলিস, সাউথ জ্যামাইকা, ওজন পার্ক, রিচমন্ড হিল, পারসন্স, উডসাইড, এস্টোরিয়া, ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটনের বিভিন্ন মসজিদ এবং নিউইয়র্ক স্টেটের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে মুসলিম কমিউনিটি ও মসজিদ আছে, সেখানে ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক ছাড়াও ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফ্লোরিডা, মিশিগান, নিউজার্সি, কানেক্টিকাটসহ মুসলিম-অধ্যুষিত স্টেট ও সিটিসমূহে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হবে। কোথায়, কখন ঈদের জামাত জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে জ্যামাইকার টমাস এডিসন হাইস্কুলের মাঠে। সেখানে একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায়। এই জামাতে মহিলাদেরও নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রাখা হবে। ইতিমধ্যে সেখানে ঈদের নামাজের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে। সে ক্ষেত্রে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতগুলো হবে সকাল ৮টা, ৯টা ও ১০টায়। এখানে পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্যও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। এস্টোরিয়ার আল আমিন জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায়। এস্টোরিয়ার ৩৬ স্ট্রিটে (৩৬ ও ৩৭ অ্যাভিনিউর মাঝে) জামাত হবে। আবহাওয়া খারাপ হলে মসজিদের ভেতরে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল সাতটায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল আটটায় এবং তৃতীয় জামাত সকাল নয়টায় হবে। মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তৃতীয় জামাতে মহিলারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আল আরাফা ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে জ্যামাইকার সুজান বি এন্থনির প্লেগ্রাউন্ডে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বাইরে হলে একটি জামাতে নামাজ হবে সকাল সাড়ে আটটায়। প্লে- গ্রাউন্ডে সকাল সাড়ে আটটায় জামাত হবে একটি। এ জন্য সব প্রস্ততিও নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টি হলে প্রস্তুতি রয়েছে মসজিদে ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করার। সে ক্ষেত্রে চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বৃষ্টি হলে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল সাতটা, দ্বিতীয় জামাত সকাল আটটা, তৃতীয় জামাত সকাল নয়টা এবং চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, জামাতে যেসব শিশু আসবে, তাদের জন্য থাকবে কটন ক্যান্ডি ও বেলুন। দারুল উলুম নিউইয়র্ক-এর ঈদের জামাত সকাল ৮ টায় পার্কিং লটে অনুষ্ঠিত হবে। বৃষ্টি হলে মসজিদের ভেতরে জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে। জ্যাকসন হাইটসে ডাইভারসিটি প্লাজায় নিউইয়র্ক ঈদগাহর উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে পাঁচটি। সকাল ছয়টা থেকে জামাত শুরু হবে। এরপর প্রতি এক ঘণ্টা পরপর ঈদের জামাত হবে। বৃষ্টি হলে কাবাব কিংয়ের দোতলায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পরপর পাঁচটি জামাতের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান মাওলানা কাজী কাইয়্যূম। এদিকে জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদী সেন্টারের উদ্যোগে ঈদের পরদিন স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে এবং যারা কোরবানি দিতে পারবেন না, তাদের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হবে। এই মাংস যারা বিতরণ করতে চান, তারা ঈদের পরদিন বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসে মোহাম্মদী সেন্টারে কোরবানির মাংস দিতে পারবেন। ওজনপার্কের আল ফুরকান মসজিদে ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৭৭ অ্যান্ড গ্ল্যানেমার অ্যাভিনিউতে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল আটটায় আর দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল নয়টায়। আল কুবা ইসলামিক সেন্টার অব জ্যামাইকার উদ্যোগে সাউথ জ্যামাইকার পিএস ৫০ স্কুলের মাঠে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল আটটায় একটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বৃষ্টি হলে ঈদের জামাত হবে তিনটি। সে ক্ষেত্রে প্রথম জামাত হবে সকাল সাড়ে সাতটায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে আটটায় এবং তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে নয়টায়। দারুস সালাম মসজিদে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। মসজিদের ভেতরে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। ১৪৮-১৬-৮৭ রোড, জ্যামাইকায় এই মসজিদের অবস্থান। এখানে ঈদের প্রথম জামাত সকাল সাতটায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল আটটায়, তৃতীয় জামাত সকাল নয়টায় এবং চতুর্থ জামাত সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত ব্যতীত অন্য সব জামাতে মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইস্ট এলমহার্স্ট জামে মসজিদ অ্যান্ড মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে পিএস ১২৭ এর মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। একটি জামাতের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল সাড়ে আটটা। বৃষ্টি হলে মসজিদের ভেতরে দুটি জামাতের ব্যবস্থা থাকবে। সেই হিসাবে প্রথম জামাত হবে সকাল আটটায় ও দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল নয়টায়। ওজন পার্কের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে আল আমান মসজিদে। সেখানেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জামাতে অংশ নেবেন। এ ছাড়া ওজন পার্কের ফুলতলী জামে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। ব্রুকলিনে বায়তুল জান্না জামে মসজিদ অ্যান্ড মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারের উদ্যোগে ব্রুকলিনের ৫৬৯ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউতে খোলা রাস্তায় ঈদের নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃষ্টি না হলে সেখানে ঈদের জামাত হবে দুটি। একটি হবে মসজিদের ভেতরে। যারা কোরবানি দেবেন, তাদের জন্য এই জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি জামাত হবে খোলা স্থানে। এটি হতে পারে সকাল সাড়ে আটটা অথবা নয়টায়। বৃষ্টি হলে মসজিদের ভেতরে সবগুলো জামাত হবে। সে ক্ষেত্রে জামাত হবে পাঁচটি। নামাজ শুরু হতে পারে সকাল সাড়ে ছয়টায়। বায়তুল ইসলাম মসজিদ অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারের উদ্যোগে ব্রঙ্কসে ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল সাড়ে আটটায়। ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে খোলা আকাশের নিচে ঈদের বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বৃষ্টি হলে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে তিনটি। বৃষ্টি না হলে একটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে। রিয়াজুল জান্নাহ ইসলামিক সেন্টার ইনকের উদ্যোগে জ্যামাইকায় সকল মুসলমানকে নামাজ আদায় করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

গ্রীষ্মের (সামারে) তাপমাত্রা বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোতেই এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিটগুলোর জন্য বাড়তি বিলের বোঝা চেপে বসবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ মানুষ এমনিতেই কঠিন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে তারে অবস্থা হবে আরো করুণ। ফলে অনিবার্যভাবেই মাথায় হাত পড়েছে তাদের। কুইন্সের অবসরপ্রাপ্ত পোস্টালকর্মী প্যাট বারবারিনি বলেন, ‘আমাকে এই বিলগুলো পরিশোধ করতে হবে! আর সবকিছুই বাড়ছে তো বাড়ছেনই! গাড়ি ইন্স্যুরেন্স বিল, মুদি দোকানি বিল, এখন ইউটিলি বিল।’ তিনি জানান, ‘সত্যি বলতে কী, আমার স্ত্রী যদি এখনো কাজ না করতেন, তবে আমাকে পুরো গ্রীষ্মে এসি বন্ধ রেখে জানালাগুলো খুলে রাখতে হতো।’ পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে পড়বে, যদি রাজ্য কন এডিসন আগামী তিন বছরের বিদ্যুৎ বিল ১২ ভাগ বাড়ানোর প্রস্তাবটিতে সম্মতি দেয়। কুইন্সের আরেক বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত রেস্তোরাঁকর্মী, টমাস ক্যাস বলেন, ‘কনএড মনোপলি করছে। আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।’ প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ বিলে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুৎ বিল বাড়বে ৩.৮ ভাগ। অর্থাৎ যারা আগে ৮৩.৫০ ডলার বিল দিতেন, ফেব্রুয়ারিতে দিতে হবে ৮৭ ডলার। আর ২০২৫ সাল নাগাদ তা বেড়ে হবে ৯৪ ডলার। গড় আমেরিকানরা মাসে ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে- এমন হিসাবকে সামনে রেখে এই ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনের মুখপাত্র দাম বাড়ানো হবেই- এমন কিছু বলেননি। জেমস ডেন এ ব্যাপারে এখনো নীরব রয়েছেন। তিনি বলেন, কন এডিসনের বিল বাড়ানোর ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চলতি বছরের শেষ দিকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। তবে প্রস্তাবিত মূল্য বৃদ্ধি নিউইয়র্কের মানুষের জন্য খুব বেশি হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্কের পাবলিক ইউটিলিটি ল প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক লরি উইলক।