সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন

ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে নতুন ছক ফ্লেমিংয়ের

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার

ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন স্টিফেন ফ্লেমিং। নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ কোচ দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’, দলের শৃঙ্খলাজনিত সমস্যা, বেন স্টোকসের অবসর এবং নিজের কোচিং দর্শন নিয়ে কথা বলেছেন।

ফ্লেমিং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। গত ৩০ জুলাই তাকে ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজে তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন না; দূর থেকেই দলটির কার্যক্রম অনুসরণ করেছেন।

ইংল্যান্ড দলের সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরের বিভিন্ন ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ফ্লেমিং। হ্যারি ব্রুকের নাইটক্লাবের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা, অস্ট্রেলিয়ায় বেন ডাকেটের মদ্যপ অবস্থার ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসনের দলের কারফিউ ভঙ্গ এবং ব্রাইডন কার্সের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত এসব ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ও মনোযোগে প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ফ্লেমিং বলেন, এসব ঘটনা হতাশাজনক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের আদর্শ উদাহরণ হিসেবে তিনি জো রুটের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, দলের সদস্যদের মধ্যে নিজেদের পরিচয়, একসঙ্গে থাকার অনুভূতি এবং নিজেদের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার বিষয়ে কাজ করা জরুরি। এ নিয়ে রুটের সঙ্গেও তার কাজ শুরু হয়েছে।

কার্সের প্রসঙ্গে ফ্লেমিং জানান, নির্বাচনের জন্য এই পেসারকে পাওয়া যাবে। তবে শুধু রান ও উইকেটের হিসাবেই খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে না। দলের জন্য নির্দিষ্ট আচরণগত মানদণ্ডও থাকা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ম্যাককালামের উত্তরাধিকার

ম্যাককালামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে ফ্লেমিংয়ের। ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচ হিসেবে ম্যাককালামের মেয়াদ শুরু হয়েছিল দুর্দান্ত সাফল্য দিয়ে। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পর পাকিস্তানেও স্মরণীয় জয় পেয়েছিল দল। তবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের কোনো সিরিজ জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত অ্যাশেজে ব্যর্থতার পর ম্যাককালামের অধ্যায় শেষ হয়।

ম্যাককালামের প্রশংসা করে ফ্লেমিং বলেন, তিনি ইংল্যান্ড ক্রিকেটের দৃশ্যপট বদলে দিয়েছেন। তার আগ্রাসী ও আত্মবিশ্বাসী মানসিকতার প্রতি ফ্লেমিংয়ের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে নিজের কোচিং পদ্ধতিকে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমিত বলে উল্লেখ করেন।

ফ্লেমিং বলেন, ম্যাককালাম ও বেন স্টোকস ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে যে পরিবর্তন এনেছেন, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন তার লক্ষ্য সেই ভিত্তির ওপর নিজের পরিকল্পনা যোগ করা।

‘বাজবল’-এ থাকবে পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা

ইংল্যান্ডের আগ্রাসী টেস্ট ক্রিকেটের ধরন ‘বাজবল’ নিয়ে ফ্লেমিং বলেন, তিনি এই দলের ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখতে চান। তবে এর সঙ্গে আরও পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার সক্ষমতা যোগ করতে চান।

তার লক্ষ্য এমন একটি দল তৈরি করা, যাকে দেখে সমর্থকেরা বলতে পারেন দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, ভালোভাবে পরিকল্পিত এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শুধু বিনোদনমূলক ক্রিকেট খেলা নয়, কঠিন পরিস্থিতিতে জয় ছিনিয়ে নেওয়াকেও গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

ফ্লেমিংয়ের মতে, একটি দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিভিন্ন পরিস্থিতি ও কন্ডিশন অনুযায়ী নিজেদের খেলা বদলাতে পারা।

স্টোকসের অবসর নিয়ে ফ্লেমিং

জুনে আকস্মিকভাবে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া বেন স্টোকসের সঙ্গেও সম্প্রতি কথা বলেছেন ফ্লেমিং। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে স্টোকস ফ্লেমিংয়ের অধীনে খেলেছেন।

ফ্লেমিং জানান, ডারহামে স্টোকসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তখন স্টোকস ভালো অবস্থায় ছিলেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে শান্তিতে ছিলেন। ফ্লেমিং বলেন, কোনো খেলোয়াড় অবসরের সিদ্ধান্ত নিলে সেটিকে সম্মান করা উচিত এবং সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়।

অ্যাশেজ নিয়ে আগ্রহ

ফ্লেমিংয়ের অধীনে ইংল্যান্ডের প্রথম সিরিজ হবে ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এরপর শীত মৌসুমে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট এবং মেলবোর্নে একটি বিশেষ টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। এর পরের বড় লক্ষ্য হবে অ্যাশেজ।

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর বিষয়ে ইংল্যান্ডের অতিরিক্ত আগ্রহ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে ফ্লেমিং বলেন, তার নিজেরও অ্যাশেজ জয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ রয়েছে। নিউজিল্যান্ডেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি উচ্ছ্বসিত বলেও জানান।

এদিকে ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারেনি। ফ্লেমিং মনে করেন, এই প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড আরও ভালো করতে পারে।

তিনি ওভার রেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলের মানসিকতা ও খেলার ধরন উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের উচিত অন্য বড় প্রতিযোগিতার মতো এটিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com